সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

স্বপ্নের টানে জার্মানি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্র্যান্ডেনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে সিরাজুম মুনিরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা রিংকীর জার্মানযাত্রা; দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা, নিজের হাতে আবেদন থেকে ভিসা—সব পেরিয়ে এখন নতুন স্বপ্নের দুয়ারে। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিরাজুম মুনিরা রিংকি। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর নানা অনিশ্চয়তার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ার সময় […]

স্বপ্নের টানে জার্মানি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্র্যান্ডেনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে সিরাজুম মুনিরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা রিংকীর জার্মানযাত্রা; দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা, নিজের হাতে আবেদন থেকে ভিসা—সব পেরিয়ে এখন নতুন স্বপ্নের দুয়ারে।

উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিরাজুম মুনিরা রিংকি। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর নানা অনিশ্চয়তার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ার সময় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারি।

এরপর ধীরে ধীরে নিজের প্রস্তুতি শুরু করি। গবেষণা, ভাষা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, ভিসা প্রক্রিয়া—প্রতিটি ধাপ নিজেই সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে পেয়েছি জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা।

এখন আমার গন্তব্য জার্মানির Brandenburg University of Technology (BTU), Cottbus-Senftenberg। ২০২৬-২৭ সালের উইন্টার সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়টির M.A. Heritage Conservation and Site Management (HCSM) প্রোগ্রামে শুরু করবেন মাস্টার্সের পড়াশোনা। আগামী অক্টোবর থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন সহপাঠী আর নতুন পরিবেশে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানজিল কাজী

স্বপ্নের শুরু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে

উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারি। তখন থেকেই দেশটিতে মাস্টার্স করার স্বপ্নটি ধীরে ধীরে দৃঢ় হতে থাকে।

এরপর শুরু হয় নিজেকে প্রস্তুত করার পালা। বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক কোর্স, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কেও নিজে জানতে থাকি। পথটি সব সময় মসৃণ ছিল না। কখনো অপেক্ষা, কখনো অনিশ্চয়তা, আবার কখনো নতুন কোনো বিষয় শেখার প্রয়োজন—সবকিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে।

 ধৈর্য,অধ্যবসায় ও সাহসই প্রতিটি ধাপ পার হতে সাহায্য করেছে আমাকে।

চিন্তার জগৎ বদলে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের গবেষণাভিত্তিক আলোচনা, বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার, রিসার্চ সোসাইটি ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত পরিবেশ প্রশ্ন করতে , যুক্তি দিয়ে ভাবতে এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করতে শিখেছি। একটি বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অভ্যাসও তৈরি হয়েছে এখান থেকে।

একাডেমিক পরিবেশই পরবর্তী সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

কেন জার্মান বেছে নিয়েছেন?

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে জার্মানিকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণার সুযোগ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে।

এর পাশাপাশি জার্মানির সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাও আমার আগ্রহ বাড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কাজের সুযোগও দেশটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।

 ইতিহাস থেকে হেরিটেজ কনজারভেশন

ইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে মাস্টার্সের বিষয় নির্বাচন করা সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা করি। ২০২৬-২৭ সালের উইন্টার সেমিস্টারের জন্য জার্মানির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক অফার পাওয়ার পর নিজের একাডেমিক পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শেষ পর্যন্ত আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে আসে Brandenburg University of Technology-এর M.A. Heritage Conservation and Site Management প্রোগ্রাম।

এই প্রোগ্রামে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় একসঙ্গে শেখার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে বিষয়টির সঙ্গে পূর্ববর্তী পড়াশোনার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, ক্যাম্পাস পরিবেশ ও গবেষণার সুযোগও আমাকে আকৃষ্ট করেছে।

ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষা

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে ভাষা শেখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইংরেজি মাধ্যমে হলেও জার্মান ভাষা শেখার প্রতি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছি।

বর্তমানে জার্মান ভাষার A2 লেভেলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিয়মিত নতুন শব্দ শেখা, ব্যাকরণ অনুশীলন ও কথোপকথনের মাধ্যমে ভাষাটি আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি।

একটি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে একটি দেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। তাই জার্মানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর পর্যায়ের জার্মান ভাষা দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে ।

 আবেদনপ্রক্রিয়া কেমন ছিল?

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়ার যাত্রার অন্যতম কঠিন অধ্যায় বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, অফার লেটার, ব্লকড অ্যাকাউন্ট এবং ভিসা—প্রতিটি ধাপই নিজে সম্পন্ন করেছি ।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর চারটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার আসে। এরপর পছন্দের প্রোগ্রামে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্লকড অ্যাকাউন্টের কাজ শেষ করি। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ঢাকায় VFS Global Germany-তে জমা দেই।

সবচেয়ে দীর্ঘ ছিল ভিসার অপেক্ষা। প্রায় ২৯ মাস অপেক্ষার পর হাতে আসে কাঙ্ক্ষিত জার্মান স্টুডেন্ট ভিসা।

এই দীর্ঘ সময়কে জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষার সময় মনে করি। আমার কাছে অপেক্ষা শুধু সময় পার হওয়ার বিষয় ছিল না; বরং লক্ষ্য ঠিক রেখে ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরীক্ষা ছিল।

নারী হিসেবে পথটা সহজ ছিল না

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ একজন নারী শিক্ষার্থীর জন্য সব সময় সহজ নয়। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি, ভিন্ন পরিবেশ—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবারের সমর্থনও প্রয়োজন।

আমার পরিবার ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবা-মা আর্থিক ও মানসিকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্লকড মানির ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কাজে পাশে থেকেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক জীবনে সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকেও পেয়েছি সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ।

স্বপ্ন দেখছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণের

জার্মানিতে মাস্টার্স করতে যাওয়ার লক্ষ্য শুধু একটি বিদেশি ডিগ্রি অর্জন নয়—পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা খাতে কাজ করতে চাই।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হয়ে আধুনিক সংরক্ষণ কৌশল বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার স্বপ্নও রয়েছে আমার।

 বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান ও শিক্ষার মূল্যবান উৎস।

 আগ্রহীদের জন্য পরামর্শ

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—অনার্স পর্যায় থেকেই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ভর্তি-সংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন দেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়ার অধিকাংশ ধাপ নিজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই অপ্রয়োজনে কোনো এজেন্সির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করা উচিত। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশা না করে ধৈর্য ধরে নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পরিচিত পরিবেশ থেকে এবার আমার গন্তব্য জার্মানির নতুন এক শহর। সামনে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা পেরিয়ে যে স্বপ্নের দরজা খুলেছে, সেখানে এখন আমার একটাই লক্ষ্য—জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে একদিন নিজের দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সেই অর্জনকে কাজে লাগানো।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।