নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় চলমান একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর কাজের মান যাচাইয়ে নেমেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দিয়ে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট (আরইউটিডিপি) প্রকল্পের আওতায় গুরুদাসপুর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কয়েকটি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এর মধ্যে দুটি সড়ক সংস্কার, আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন এবং পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম রয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে সিনথিয়া-আলামিন-আনিসুর (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে পৌর এলাকার চাঁচকৈড় ওভারব্রিজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে পৌরসীমা পর্যন্ত এবং চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়ার দুখা ফকিরের মোড় থেকে তাড়াশিয়াপাড়া পর্যন্ত দুটি সড়কে সংস্কারকাজ চলছে।
সম্প্রতি নির্মাণস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ভিত্তি প্রস্তুতের জন্য খোয়া বিছিয়ে পানি দিয়ে রোলিং করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া, ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নতুন সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, “প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসারেই কাজ করা হচ্ছে। খোয়ার সঙ্গে নির্ধারিত অনুপাতে বালি ও ছোট আকারের খোয়া মিশিয়ে বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই ভুল বুঝছেন।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠা নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কাজের মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দরপত্রের শর্ত ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।