ক্রাইম রিপোর্টারঃ বরিশাল
ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার মোঃ ফোরকান এর নামে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি,ঘুষ ও কমিশন বানিজ্য সহ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।সার্ভেয়ার ফোরকান প্রায় বিশ বছর ধরে বিভিন্ন ডিসি অফিসের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করে আসছে।
বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি অধিকরণ শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন এর আগে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত ছিলেন।বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্নীতি,
ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকা দিয়ে তিনি বরিশাল শহরে চারটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪ কোটি টাকা এছাড়াও বরিশাল,পটুয়াখালী এবং তার নিজ গ্রামে কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করেছেন যার মধ্যে বরিশাল এবং পটুয়াখালীতে ৮-১০ শতাংশের মোট পাঁচটি প্লট রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে।
তিনি তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় বিলাশবহুল জীবনযাপন করছে । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বরিশাল বগুড়া রোডে খামার বাড়ির পাশেই ছয়তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার একটি ফ্লাট রয়েছে যেটা তিনি বর্তমানে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।
খামারবাড়ি ঠিক সামনে কেএফসি বিল্ডিং এর দশ তলা ভবনের নবম তলায় দুটি ফ্লাট রয়েছেন যার বর্তমান মূল্য দুই কোটি টাকার উপরে, গোপন সূত্রে জানা গেছে গত ৩ মাস আগে একটি ফ্লাট এক কোটি টাকায় বিক্রি করেছে শুধু তাই নয় ঢাকাতেও তার নিজস্ব ফ্লাট রয়েছে যেখানে তার স্ত্রী সন্তান বসবাস করে। তার সমস্ত সম্পত্তি হিসাব অনুযায়ী সে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার মালিক।একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী,
যেহেতু তিনি এখনো অবসরে যাননি তারপরেও সে কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হন।তিনি যখন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্মরত ছিলেন তার সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বেশ কয়েকজন সহকর্মী জড়িত ছিলেন এবং তারাও কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি পরে তার কাছে তার দৃশ্যমান সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সে ফোন কেটে দেয় পরে সে আর ফোন রিসিভ করেনি।এ বিষয়ে দুদক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুদক তার দুর্নীতি,ঘুষ,কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা দিয়ে সম্পদ ক্রয়ের হিসাব তলব করবে।