কিশোর বয়সে স্কুলে পড়ার খরচ চলত দানে, আর এখন তার বাড়িতে উঠছে পাকা দালান। দামি মোটরসাইকেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আর সমন্বয়ক পরিচয়ে দাপুটে উপস্থিতি—এ যেন এক রূপকথার উত্থান। কিন্তু এই উত্থানের পেছনে ঘনিয়ে আসছে কালো মেঘ। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতারের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ।
গত শনিবার (২৬ জুলাই) গুলশানের একটি বাসায় চাঁদা দাবি করতে গিয়ে চার সহযোগীসহ হাতে-নাতে ধরা পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর গ্রামের রিকশাচালক পরিবারে জন্ম নেওয়া রিয়াদকে এলাকার মানুষ একসময় সহানুভূতির চোখে দেখত। মা-বাবা মানুষের দানে ছেলেকে পড়িয়েছেন, এমন কথাও বারবার শোনা গেছে প্রতিবেশীদের মুখে।
কিন্তু গত এক বছরে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পুরোনো টিনের ঘর ভেঙে বাড়িতে শুরু হয় পাকা ভবনের নির্মাণ। দুই-আড়াই মাসে ছাদ ঢালাই পর্যন্ত পৌঁছেছে কাজ। যা দেখে হতবাক এলাকাবাসী।
প্রতিবেশীদের অনেকেই বলেন, রিয়াদের আচরণও বদলে গিয়েছিল। ঢাকায় থেকে দাপটের সঙ্গে এলাকায় চলাফেরা করতেন। দামি বাইকে চড়ে আসতেন। ফেসবুকে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিতেন।
স্থানীয় স্কুলের সাবেক সভাপতি বলেন, “এই ছেলেকে একসময় মানুষ দান করে পড়িয়েছে, সে কীভাবে ভয়ংকর চাঁদাবাজে পরিণত হলো, ভাবতে কষ্ট হয়।”
রিয়াদের পরিবার বলছে, জমানো টাকা, টিউশনির আয়, অনুদান, ঋণ আর ব্র্যাকের সহায়তায় ঘর তৈরি হচ্ছে। তবে অর্থের উৎস নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।
প্রকৌশলীরা জানান, এই আয়তনের একটি ভবনের ছাদ ঢালাইসহ বর্তমান কাজেই ১২-১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পুরো ভবনের জন্য লাগতে পারে ২০-২৫ লাখ।
রিয়াদের সহপাঠীরা বলছে, “সে ছাত্র ছিল, পরে ঢাকায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ৫ আগস্টের পর সমন্বয়ক হওয়ার পর থেকেই সে বদলে যায়।”
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতারের পর রিয়াদকে নিয়ে এলাকায় চলছে বিস্ময়, ক্ষোভ আর প্রশ্ন। একজন দানের টাকায় বেড়ে ওঠা তরুণ কীভাবে অল্প সময়েই এত টাকার মালিক হলো—এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে নবীপুরের অলিতে গলিতে।