যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের মুখে দেশের ভেতরে ‘অভূতপূর্ব সংহতি’র প্রশংসা করে ইরানি জনগণের প্রতি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, ইরানি জনগণের আসল শক্তি ও ভেতরের চেতনা যে তাদের বিশ্বাস, আশা এবং কর্মের মধ্যে নিহিত—তা আজ বন্ধু ও শত্রু সবার কাছেই প্রমাণিত হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জনসমক্ষে আসেননি এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমেই নিজের নির্দেশনা জারি করে আসছেন।
তার এই সর্বশেষ বার্তায় তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ বোমাবর্ষণে দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও ইরান এই সামরিক অভিযানের মুখে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে যেকোনো ধরনের ‘অর্থহীন রাজনৈতিক বিবাদ’ এড়িয়ে তিনি দেশ পুনর্গঠন এবং জাতীয় সংহতির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইসরায়েলি এই ভয়াবহ হামলার ফলে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের শূন্যতা ও ফাটল তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খামেনি দেশের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরি করতে সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন ও নজরদারি আরও জোরদার এবং গতিশীল করতে হবে। তিনি সংসদীয় আসনগুলোকে দেশের অগ্রগতির পথের ‘সম্মুখ সমরের পরিখা’ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানান।
এদিকে, শত্রুতা অবসান ও একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে পরোক্ষ আলোচনা চললেও উভয়পক্ষের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।
সূত্র: সিএনএন
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?