শেকৃবি প্রতিনিধি
ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭টি হাট এবং গাবতলি হাটসহ মোট ২৮টি কোরবানির পশুর হাটে তারা ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছেন।
রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চার দিনব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৭টি এবং গাবতলি হাটসহ মোট ২৮টি কোরবানির পশুর হাটে শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন। প্রতিটি হাটে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের নেতৃত্বে শিক্ষার্থী দল দায়িত্ব পালন করছে। অধিক ব্যস্ত ও বড় হাটগুলোতে অতিরিক্ত টিমও নিয়োজিত রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে তারা পশুর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ, হরমোন বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের সম্ভাব্য লক্ষণ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তথ্যপত্র বিতরণ এবং পশুর বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাটভিত্তিক এই সেবামূলক কার্যক্রম কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেমন সহায়ক হবে, তেমনি ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পশু বেচাকেনা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।