বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তরুণ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখছেন খানপুরবাসী

সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে আসন্ন খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এই আলোচনার শীর্ষে আছেন শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফি আল আমিন। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের নেতৃত্ব দেখা […]

তরুণ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখছেন খানপুরবাসী

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ০১:২২

সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে আসন্ন খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এই আলোচনার শীর্ষে আছেন শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফি আল আমিন। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের নেতৃত্ব দেখা হয়েছে। এবার তারা নতুন ও তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে চায়। বিশেষ করে শিক্ষিত মানবিক উন্নয়ন মুখী নেতৃত্ব প্রতি আস্তা বাড়ছে মানুষের দিন দিন। 

স্থানীয়দের মতে, একাধিক প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে অতীতে দায়িত্ব পালন করলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে এবার নতুন চিন্তাধারার একজন নেতৃত্ব দিকে ঝুকছেন ভোটাররা। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাফি আল আমিন এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) কে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। 

চকখানপুর গ্রামের প্রবীণ এক ব্যক্তি বলেন, আমরা বহুবার অনেক প্রার্থী দেখেছি, অনেক প্রতিশ্রুতিও শুনেছি। কিন্তু গ্রামের উন্নয়ন সে ভাবে হয়নি। এবার শিক্ষিত নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চাই। যে সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কাজ করবে।

নাহের খাগা গ্রামের কৃষক মান্নান বলেন, কৃষকদের সমস্যা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে তেমন কোন কাজ হয়নি। এবার একজন তরুণ প্রার্থীকে মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। 

একই গ্রামের যুবক আরিফুল বলেন, পুরানো নেতৃত্ব দেখে মানুষ ক্লান্ত, এখন তরুণ সমাজ চায় আধুনিক চিন্তাধারার একজন চেয়ারম্যান, যিনি মাদকমুক্ত ও উন্নত ইউনিয়ন গড়তে পারবেন। 

তালপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক রব্বানী বলেন, আগেও অনেক চেয়ারম্যান এসেছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেননি। রাফি আল আমিন সাধারণ মানুষের কাছে যান, কথা শোনেন, এটাই মানুষকে আশাবাদী করছে।

সচেতন মহলের মতে, খানপুর ইউনিয়নের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা এমন একজন চেয়ারম্যানকে চান, যিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করবেন এবং খানপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করবেন। 

কলেজ ছাত্রী মোহনা বলেন, আমরা নতুন প্রজন্ম হিসেবে পরিবর্তন চাই। শিক্ষা, নারীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে তরুণ নেতৃত্ব কাজ করবে বলে বিশ্বাস করি। 

শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়নে শিক্ষিত নেতৃত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চায়। তাই তরুণ প্রার্থীদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। 

দড়িখাগা গ্রামের যুবক মনির বলেন, একই ধরনের রাজনীতি মানুষ আর দেখতে চায় না। ইউনিয়নে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, খেলাধুলা ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা দরকার। নতুন নেতৃত্বই সেটা করতে পারবে। 

দশশিকা গ্রামের এক কৃষক সারোয়ার বলেন, রাস্তা ঘাট ও কৃষি সামগ্রী নিয়ে মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। পুরোনোদের অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবার নতুন কাউকে দিয়ে উন্নয়ন দেখতে চায়। 

শিরিনা বলেন, মানুষ এখন মানবিক চেয়ারম্যান চায়। গরীব মানুষের খোঁজ নিবে, বিপদে পাশে থাকবে। এমন একজন প্রতিনিধি দরকার। 

ছাতিয়ানী গ্রামের ব্যবসায়ী চান মিয়া বলেন, শুধু নির্বাচনের সময়ই নয়, সবসময় মানুষের পাশে থাকা নেতৃত্বই মানুষের মন জয় করতে পারে। তাই তরুণ প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। 

কলেজ ছাত্র রায়হান বলেন, আমরা তরুণরা পরিবর্তনের পক্ষে। ইউনিয়নকে আধুনিক করতে হলে নতুন চিন্তাধারার নেতৃত্ব প্রয়োজন। পুরনো ধারা হতে বের হয়ে আসতে হবে। 

শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফি আল আমিন বলেন, আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করতে চাই না। মানুষের পাশে থেকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে খানপুর ইউনিয়নকে উন্নয়নে-সুশাসনে- আধুনিক উন্নত ও মানবিক একটি মডেল ইউনিয়নে গড়ে তুলতে চাই। ছাত্র ও তরুণ সমাজ, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।