পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও একাধিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব চালিতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. রাব্বি খান (৩২), মো. রুবেল মৃধা (৪০) ও মো. ইমন হাওলাদার (৩৫)। তাদের মধ্যে রাব্বি খানকে এ ঘটনার মূল আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে কলাপাড়া থানা পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, গোপন তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রধান আসামি রাব্বি খানের পূর্বপরিচয় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর মা ও ভাই বাসার বাইরে থাকায় সেই সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরের পেছনের অংশে সিধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পুলিশের অভিযানে গত ২২ মে কলাপাড়া এলাকা থেকে রুবেল মৃধা ও ইমন হাওলাদারকে আটক করা হয়। একইদিন পৃথক অভিযানে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মূল আসামি রাব্বি খানকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।