মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে চীন

বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। দেশটির সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির এই উদ্যোগ শুধু আকার নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবমেরিন তৈরিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশটি। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (প্ল্যান) দ্রুতগতিতে তাদের নৌবহর আধুনিকায়ন করছে। উন্নত জাহাজ […]

নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৬

বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। দেশটির সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির এই উদ্যোগ শুধু আকার নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবমেরিন তৈরিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশটি।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (প্ল্যান) দ্রুতগতিতে তাদের নৌবহর আধুনিকায়ন করছে। উন্নত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সহায়তায় তারা নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন যুক্ত করছে বহরে। এই উন্নয়ন চীনের ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সাবমেরিন ‘টাইপ–০৯৫’-এর একটি ঝলক দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগের টাইপ–০৯৩বি ও টাইপ–০৯৪ শ্রেণির সাবমেরিনের উন্নত সংস্করণ।

যদিও এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, টর্পেডো বিন্যাস ও সোনার সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত পরিসরে সামনে এসেছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পানির নিচে আধিপত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী, এই সাবমেরিনটির আকার বড় প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং এর অভ্যন্তরীণ ধারণক্ষমতা বেশি। এর স্থানচ্যুতি প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টনের মধ্যে হতে পারে, যা এটিকে চীনের বহরের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনে পরিণত করতে পারে।

যদিও সাবমেরিনটির গঠন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলো থেকে বোঝা যায়, টাইপ ০৯৫ পিএলএএন পানির নিচের সক্ষমতা উন্নত করবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই সাবমেরিনে উন্নত হাইড্রোডাইনামিক নকশা, উন্নত শব্দনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অপেক্ষাকৃত নীরব প্রপালশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা শত্রুর শনাক্তকরণ এড়াতে সহায়ক হবে। এতে পাম্প-জেট প্রপেলার, শব্দ প্রতিরোধী আবরণ এবং উন্নত ইঞ্জিন কম্পন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি থাকতে পারে।

এতে সম্ভবত উন্নত অ্যাকোস্টিক প্রযুক্তি, যেমন- সোনারকে বোকা বানানো অ্যানিকোয়িক টাইলস এবং উন্নত ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আইসোলেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিছু বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, ০৯৫ বেইজিংয়ের কোলাহলপূর্ণ সাবমেরিনের সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।

এছাড়া সাবমেরিনটিতে এক্স-আকৃতির রাডার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পানির নিচে গতিশীলতা বাড়াবে। এতে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর থাকতে পারে, যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে।

অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার সম্ভব। এই ব্যবস্থাটি বেইজিংয়ের নতুন ওয়াইজে-১৯ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ওয়াইজে-২০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম, কিন্তু বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাই-প্যাক নামে পরিচিত একটি অস্ত্র ব্যবস্থা, যেখানে একটি টিউবের মধ্যে তিনটি উৎক্ষেপণ সেল থাকে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, টাইপ ০৯৫-এ আটটি টর্পেডো টিউব থাকবে, যার মধ্যে চারটি জাহাজের সামনের অংশের (বো) উভয় পাশে বসানো থাকবে, যা সম্ভবত একটি বড় সোনার সিস্টেমের জন্য জায়গা তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাবমেরিন মূলত পানির নিচে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করা হবে, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের পারমাণবিক সাবমেরিন মোকাবিলায়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিউলফ সাবমেরিনের মতোই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এটি জাহাজ বা স্থলভাগে আঘাত হানার সক্ষমতাও রাখতে পারে, তবে এটিকে প্রধানত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিহাসগতভাবে চীনের সাবমেরিন বহর প্রযুক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে চীন দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে বেইজিং।

২০২২ সাল নাগাদ যেখানে মাত্র ছয়টি পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করেছিল চীন, সেখানে ২০২২ সালের পর থেকে প্রতি বছর প্রায় তিনটি করে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে তারা। মাত্র দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে পিএলএএনকে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনীতে পরিণত করেছে দেশটি।

একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন প্রায় ৭৯ হাজার টন ডিসপ্লেসমেন্টের সাবমেরিন তৈরি করেছে, যেখানে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। অর্থাৎ পারমাণবিক সাবমেরিন উৎপাদনে এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বেইজিং।

এই উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে চীন এখন নৌবাহিনীকে নিজস্ব সীমার বাইরে বিস্তৃত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে দেশটি। নতুন টাইপ–০৯৫ সাবমেরিনটি যুদ্ধজাহাজ বহর, বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য আক্রমণাত্মক ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন বাহিনী এখনো প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে, তবুও উৎপাদনের এই ব্যবধান ভবিষ্যতে সামরিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে বোহাই শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন এই সাবমেরিনটি আগামী এক বছরের মধ্যেই পানিতে নামানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিজিআর

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৩

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৩

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৩

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৩