সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার অভয়পাশা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত হয়েছে। তারা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  মোখলেছুর রহমান পরশ উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:০৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার অভয়পাশা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত হয়েছে। তারা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মোখলেছুর রহমান পরশ উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সুবহান মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পরশ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বাচ্চু মিয়া একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি ও অভয়পাশা বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

অভিযুক্ত রবিকুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আড়াগাও গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের সমর্থক হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী সমর্থকরা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। এ থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে মোখলছুর রহমান অভয়পাশা মধ্য বাজারে পৌঁছার পর রবিকুল ইসলাম, রহিছ আলামিন, লালন ও রাজু তাদের লোকজন নিয়ে হামলা করেন। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও অভয়পাশা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভর্তি করেন। 

ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান পরশ বলেন, ৫আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর রবিকুল ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া অভয়পাশা বাজারে লুটপাট করার চেষ্টা করেন। আমি ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবারের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছি। ওই হিসেবে আমি বাজারে লুটপাট এবং ভাঙচুর করতে দেয়নি। এরপর তারা আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে নির্বাচন করেছি। নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় মধ্য বাজারে রবিকুল, রহিছ, আল আমিন ও লালন তাদের লোকজন নিয়ে আমার উপর হামলা করে। এ সময় বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়াকেও তারা মারপিট করে।

অভয়পাশা বাজারের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বলেন, অভয়পাশা বাজারের ইজারার শিডিউল সোমবার জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইজারার বিষয়ে মোখলেছুর রহমান ও আমরা মিটিং করে রাত ১২টার দিকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। মধ্য বাজারে রবিকুল তার লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও আমি আহত হই। পরে আমার সাথে থাকা ৫৮ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি’র সভাপতি রবিকুল ইসলাম বলেন, রাতে আমি অভয়পাশা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ মানুষের ডাক চিৎকার শুনতে পাই। পরে গিয়ে শুনি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়ার উপর কে বা কারা হামলা করেছে। এখন আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।

শ্বরমুশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান রিপন ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায় কমিটির সদস্য আয়াতুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে যারা কাজ করেছে তাদেরকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার ইজারার বিষয় নিয়ে মোখলেছুর রহমান পরশ ও অভয়পাশা বাজারে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বাজারে মিটিং শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে রবিকুল তার লোক জন্য হামলা করে। এটি অত্যন্ত নেক্কা ষরজনক ঘটনা। এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুম চৌধুরী জানান, শুনেছি অভয়পাশা বাজারে রবিবার রাতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ঘটনাটি রাজনৈতিক কোন বিষয় না। এটি তাদের দু’পক্ষের বিষয়।

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও মো. মাজহারুল আমীন বলেন, আটপাড়ার মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত রোগী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জোবায়দুল আলম জানান, রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সকালে পুলিশ সেনাবাহিনী সহ আমি অভয়পাশা বাজারে গিয়েছিলাম। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে মারামারি হওয়ার বিষয়টি জানিনা। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।