রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

অন্যায়ের প্রতিকার না পেলে বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেসব আসনে কারসাজি, অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে যদি প্রতিকার না পাই তাহলে আমরা বাধ্য হবো, আমাদের পথ ধরতে। জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা […]

অন্যায়ের প্রতিকার না পেলে বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে : জামায়াত আমির

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৭

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেসব আসনে কারসাজি, অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে যদি প্রতিকার না পাই তাহলে আমরা বাধ্য হবো, আমাদের পথ ধরতে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায়-ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদেরকে নিতে হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন ও ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল জনগণ। গতকাল স্বাচ্ছন্দে স্বস্তির সঙ্গে তারা ভোট দিতে চেয়েছিলেন। আমরা গতকাল রাতেও বলেছিলাম, বাংলাদেশে আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতির পক্ষে। আমরা চাচ্ছি, ইতিবাচক দ্বারা রাজনীতি করবো। আর আমরা এও বলেছিলাম, আমাদের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ আছে, আপত্তির জায়গা আছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন মানে হার-জিতের ব্যাপার থাকবে স্বাভাবিক। সেই হার-জিতটা যদি স্বাভাবিকভাবে হয় তাহলে কারো সেখানে বড় কোনো আপত্তি থাকে না। সবাই সাধারণত মেনে নেয়। কিন্তু যদি সেখানে বড় ধরনের কোনো বৈষম্য অথবা অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এটা প্রশ্ন তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে গতকাল এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জানানোর পরেও আজকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী সমর্থক, এজেন্ট, ভোটার বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে।

আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়িতে। এটা তো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। যে ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং এর সম্পূর্ণ দায় তাদেরকে নিতে হবে যারা এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবেন। আমরা চাইলেও যদি তারা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি না চান তাহলে আমরা জোর করে ইতিবাচক রাজনীতি করতে পারবো না।

জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন যেভাবেই পেয়ে থাকুন। এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট অবজারভেশন, আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। যদি তারা সরকার গঠন করে এটা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু এখন এগুলা কিসের আলামত? এখন এগুলা বন্ধ করতে হবে।

তিনি এও বলেন, এখনো যদি এগুলো বন্ধ করা না হয় আমরা বাধ্য হবো, যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে।

তিনি বলেন, আমরা নিরীহ দেশবাসী যারা ভালোবেসে একটা পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন এবং আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন, সহযোগিতা সমর্থন করেছেন। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, আপনারা যেমন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম আজকে থেকে আরও শক্তভাবে আপনাদের সঙ্গে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।

নর্বাচনী ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বেশ কিছু জায়গায় কালকে নির্বাচনী সম্প্রচার যখন হয় ফলাফল হঠাৎ করে বন্ধ। কষ্টমষ্ট করে তাকে ছাড় দিয়ে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে, যেটা অবাস্তব। আবার আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে। বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্ট শিটের উপর ঘষামাজা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারীর আসনের ব্যাপার আপনারা সবাই জানেন। এটা আমাকে বড় করে আর বলতে হবে না সেখানে কি হয়েছে। সেন্টার দখল করে একজন নেতার আপনজনের নেতৃত্বে সেখানে যা হয়েছে তার সাক্ষী দেশবাসী, বিশ্ববাসী।

নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওখানে যে কারণে অন্য একজন প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট এক্সেপ্ট করা হয়েছে ঠিক একই কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের ক্ষেত্রে এক্সেপ্ট করা হয়নি। তো এক দেশে কি দুই আইন চলবে? নির্বাচন কমিশন কি এ এক জায়গায় একেকটা আইনের প্রয়োগ করবে? একই বিষয়ে এটা এখন বিশাল প্রশ্নের ব্যাপার। আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বেশ কিছু আসনে এই ধরনের ব্যাপার আছে।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি। ভালোবাসার জায়গা থেকে আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং দেশের ঐক্য চাই। আমাদের স্লোগানই ছিল ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে থাকতে হলে পরস্পরকে সম্মান করেই থাকতে হবে। এখানে কেউ রাজা নয় আর বাকিরা প্রজা নয়। এখানে কেউ মালিক বা অধীনস্থ নয়। এখানে সবাই বাংলাদেশের একই সংবিধানের অধীনে সমান অধিকার ভোগ করবেন।

জামায়াত আমির বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, এই কালো অধ্যায়ের অবসান হোক। কিন্তু যদি আবার এটা ফিরে আসে আমরা লড়ে যাব। আমরা থামবো না, ইনশাআল্লাহ। এখানে কোনো ছাড় দেবো না। দেশের জনগণের ফ্যাসিবাদ আমাদের বিরুদ্ধে না। ফ্যাসিবাদ দেশবাসীর বিরুদ্ধে।

সারা বিশ্ব থেকে এখানে পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন, তারা সময় দিয়েছেন, দেখেছেন আপনারাই জানাবেন। নতুন ধারার সুস্থ রাজনীতি চালু হোক এবং এখানে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো আচরণ জাতি দেখতে চায় না, সহ্যও করবে না।

ইতিপূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে আমাদের উপর এই আমানত রেখেছে, আমরা কথা দিচ্ছি, নির্বাচনের আগে যা বলেছি, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

আমাদের নারী সমাজের অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নির্বাচনের আগে বিঘ্নিত হয়েছে। আমরা তাদের অধিকার নিরাপত্তার পক্ষে লড়ে যাবো। আমরা ছাড় দেব না। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের পক্ষে আছি। আমরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নই। আমাদের অবস্থান আপামর জনগণের পক্ষে। এই জায়গা থেকে চুল পরিমাণ সরার আমাদের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশবাসী আমাদের ইন্টেনশন দেখেছেন। আমরা গতকালকেই বলেছিলাম, আমাদের ভদ্রতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে কেউ যদি দুর্বলতা মনে করেন তারা নিজের উপরে জুলুম করবেন। এটা আমাদের দুর্বলতা নয়। এটা ছিল আমাদের উদারতা। উদারতাকে দুর্বলতা মনে করলে বিপত্তি তাদের জন্যই ঘটবে যারা মনে করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলবো, এ সমস্ত অপকর্ম এখন বন্ধ করুন। এখন রাইট না আমরা আপনাদের সদিচ্ছা দেখতে চাই। নিশ্চয়ই আপনাদের নেতৃত্ব আছে, কমান্ড আছে। আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

আমরা এই সমস্ত ঘটনা যেগুলো ঘটেছে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত সবগুলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এটার প্রতিকার চাই। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। কিন্তু প্রতিকার পাওয়ার এবং নেওয়ার আমাদের অধিকার আছে। আমরা আশা করবো জাতির সেন্টিমেন্টের প্রতি সম্মান রেখে নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাসল পাওয়ার, কালো টাকা, যাই হয়েছে, এটার প্রতিকার চাইবো, আমাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে দিন।

তিনি বলেন, ঋণ খেলাফিদের ঋণের এই দায় থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আরপিও যেটা কাভার করে না এরকম যারাই নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে মেহেরবানি করে তাদের ফলাফল স্থগিত রেখে এ ব্যাপারে আগে সুরাহা করুন। তারপরে আপনারা আগান। দ্রুত সুরাহা করলে দ্রুত আগাইতে পারবেন, কোনো সমস্যা নাই। আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু এর সুরাহা হওয়া উচিত।

যারা এই ঋণখেলাফি হয়েছেন, এটা এক ধরনের অপরাধ। তাদেরকে আরপিওর আন্ডারে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা তারা গ্রহণ করেন নাই। তারা গ্রহণ করলে আমাদের আজকে এই কথাগুলো বলার দরকার হতো না। অনেকে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করেছেন। সেইটাকে অবলীলায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও ক্ষেত্রবিশেষে সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। স্পষ্টভাবে এটা আর আরপিওর লঙ্ঘন। আমরা সেই ভায়োলেশন দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আমরা মনে করি সত্যের পক্ষে অবস্থান নেবেন। সংবাদজগত ন্যায়ের পক্ষে নেবে। আপনাদের অবস্থান হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী। আপনাদের অবস্থান হবে জনগণের স্বার্থ এবং কল্যাণের পক্ষে। আমরা এটাও লক্ষ্য করছি।

তিনি আরও বলেন, কোন কোন জায়গায় ফ্যাসিবাদীদেরকে ঘোষণা দিয়ে এখন পুনর্বাসন করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও তা লক্ষ্য করেছি। এটা মনে রাখবেন কিছু মানুষ জীবন বাজি রেখে লড়াই করে জীবন দিয়ে এই ছাব্বিশ আমাদেরকে এনে দিয়েছে। চব্বিশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যে কেউ অপমানজনক আচরণ করবেন জাতি তাদেরকে ক্ষমা করবে না। বিশেষ করে যুবসমাজ তাদেরকে ক্ষমা করবে না।

গণভোটের পক্ষে জনগণের রায়কে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা অনুরোধ করবো চব্বিশের আকাঙ্ক্ষাকে যেন ধারণ করা হয়। গণভোটের ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার রায় দিয়েছে গণভোটের পক্ষে।

অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম আমরা দেখতে চাই না। পচা রাজনীতির পরিবর্তনের জন্যই ছিল এই গণভোট। নতুন ধারার সুস্থ রাজনীতির পক্ষেই গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে। এখন বাস্তবায়ন করা যারাই সরকার গঠন করবেন তাদের দায়িত্ব। তারা যদি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

তিনি বলেন, কেউ যদি এড়িয়ে চলতে চান আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের কন্ঠ থেমে থাকবে না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।

তিনি যে সমস্ত আসনে ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা তার প্রতিকার চাইবো। কিন্তু হাস্যকর এতো কিছু করার পরেও একটা পক্ষ তারা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। ভোট কেড়ে নেওয়া, তারপরে রেজাল্টে বিভিন্ন ধরনের মেকানিজম প্রয়োগ করা। এখন আবার সেই সিটগুলোর বিরুদ্ধে অনেকে নতুন কসরত শুরু করেছেন।

কি চাচ্ছেন আপনারা? জাতির সামনে পরিষ্কার করে বলে দেন। এই প্রক্রিয়া যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমাদের কি করার থাকবে? যারা এই ধরনের কাজ করবেন দায় তাদেরকে নিতে হবে। আমরা আবারও বলবো, দেশকে ভালোবাসি। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি চাই। আমাদেরকে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না করেন। বঞ্চিত করলে দায় তাদের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭