প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ড. ইউনূস যত সুবিধা নেওয়ার দরকার নেবেন, কিন্তু পদত্যাগ করবেন না।”
গয়েশ্বর বলেন,
“ক্ষমতায় থাকতে তিনি মৌলবাদীদের একত্র করেছেন। যাদের মাথায় একমাত্র এজেন্ডা হলো গোটা অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়ানো। তিনি বুঝে শুনে একে জাতীয় কৌশল হিসেবে নিয়েছেন, কিন্তু এই কৌশল একদিন তার নিজের বিপরীতেই যাবে।”
তিনি আরও বলেন,
“দেশে যে দুর্নীতি চলছে, তার দায় এখন এই অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়েই পড়ে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ড. ইউনূস তাদের সাথেই আঁতাত করছেন।”
তবে ড. ইউনূসের সমালোচনার মাঝেও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একটি রাজনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“ড. ইউনূস যদি সফল হন, তাহলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সফলতা আসবে। কারণ এই সরকার যতই ত্রুটি নিয়ে আসুক, এটা ভেঙে গেলে যে অনিশ্চয়তা আসবে, তা আমরা চাই না।”
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন,
“আমরা কেউ চাই না প্রধান উপদেষ্টা ব্যর্থ হোন বা তাকে সরানো হোক। তবে আমরা চাই তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করুন, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করুন এবং নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গয়েশ্বরের বক্তব্য মূলত বিএনপির দ্বৈত অবস্থানকেই প্রকাশ করে—একদিকে সরকারের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ, অন্যদিকে একটি বিকল্প সঙ্কটের ভয়ে অতিমাত্রায় উত্তেজনা না ছড়ানোর কৌশল। তবে এটি স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বিএনপির আস্থা এখন একেবারেই নেই।
প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। এনসিপি নেতার সঙ্গে বৈঠক, প্রধান উপদেষ্টার হতাশা প্রকাশ এবং বিভিন্ন দলের সরাসরি চাপ—সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটভূমি এখন স্পষ্টতই অস্থির ও উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে গয়েশ্বরের বক্তব্য কেবল বক্তব্য নয়, বরং তা চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি শক্ত প্রতিফলন।