সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

ছাত্রদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে বিএনপির

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পরিক্রমা তুলে ধরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের খসড়া ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এই ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসন যাতে আর ফিরে না আসতে পারে, সে ব্যাপারে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গুম-খুন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত […]

নিউজ ডেস্ক

০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৩:০৯

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পরিক্রমা তুলে ধরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের খসড়া ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।

এই ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসন যাতে আর ফিরে না আসতে পারে, সে ব্যাপারে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গুম-খুন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত যে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সেটার বিচারের বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ন্যূনতম সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই ঘোষণাপত্রকে ‘প্রোক্লেমেশন’ না বলে ‘ডিক্লারেশন’ বলে উল্লেখ করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপির খসড়া ঘোষণাপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা গত ৩১ ডিসেম্বর ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপির আপত্তির কারণে সেই ঘোষণাটা আসেনি।

অবশ্য আগের দিন ৩০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মতৈক্যে ঘোষণাপত্র প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। এরপর ছাত্রদের তৈরীকৃত ঘোষণাপত্রের খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাকে গত ১৬ জানুয়ারি সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রধান উপদেষ্টার সর্বদলীয় ওই বৈঠকে ঘোষণাপত্র নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সেখানে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে কোনো গণঅভ্যুত্থান-গণআন্দোলনের রাজনৈতিক দলিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে এর আইনি ভিত্তি কী হবে, সে ব্যাপারেও যথেষ্ট আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। এরপর বিএনপি এটা নিয়ে দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের এতদিন পরে এসে এই ঘোষণাপত্রের যৌক্তিকতা,

প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা আছে কি না—এ ধরনের নানা বক্তব্য আসে। ঘোষণাপত্র প্রণয়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও চূড়ান্তভাবে ছাত্রদের প্রস্তাবিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নের উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে বাস্তবতার নিরিখে খসড়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। তারই আলোকে দলটি এই খসড়া ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে।

বিএনপি তাদের এই খসড়া ঘোষণাপত্র নিয়ে এরই মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের মতামত নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার ১২ দলীয় জোট ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গ বৈঠক করেছে দলটি।

এদিন বৈঠক হয়েছে খেলাফত ইসলামীর সঙ্গেও। পর্যায়ক্রমে যুগপতের অন্য শরিকদেরও মতামত নেবে বিএনপি। এ ছাড়া বৈঠক করবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পৃথকভাবে রাজপথে সক্রিয় থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী অন্য দলগুলোর সঙ্গেও।

কারণ, বিএনপি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করতে চায়। জানা গেছে, বিএনপির তৈরীকৃত খসড়ায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সেখানে টুকটাক পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন হতে পারে।

এদিকে ছাত্রদের ও বিএনপির তৈরীকৃত খসড়া ঘোষণাপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় পার্থক্য রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের খসড়া ঘোষণাপত্রে ছাত্ররা স্বাধীনতা যুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ আর বিএনপি ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বলছে। দলটি ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার কথাও বলেছে, যেটি ছাত্রদের ঘোষণাপত্রে নেই।

ছাত্রদের ঘোষণাপত্রে সংবিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মানুষের মতামত ও প্রত্যাশাকে প্রতিফলন করতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যর্থ করার পথ সুগম করেছিল।

এ ছাড়া বিগত শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন করে বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তাই আমরা ‘ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে লালন করার দলিল’ ১৯৭২ সালের সংবিধান সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিল করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলাম।

অন্যদিকে বিএনপির খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের পতনের পর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

অন্যদিকে যেহেতু বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়, তাই বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধন করা যায়।

ছাত্ররা জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার চান। তাদের খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আমরা সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধ নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করবে—এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করলাম।

অন্যদিকে বিএনপি ন্যূনতম সময়ে জাতীয় নির্বাচন এবং নির্বাচিত জাতীয় সংসদে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে। দলটির খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ ন্যূনতম সময়ে আয়োজিতব্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে

প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত-বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন নিয়েও ছাত্র ও বিএনপির খসড়ায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ছাত্রদের খসড়ায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং অবৈধ ও অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান।

অন্যদিকে বিএনপির খসড়ায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের পতনের নিমিত্তে ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি-পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে অবৈধ, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিএনপির ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিসংখ্যান সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যোগদান করে এবং রাজপথে নারী-শিশুসহ দুই সহস্রাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়; অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে।

আওয়ামী শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও ভিন্নতা রয়েছে খসড়ায়। ছাত্রদের খসড়ায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যত্র ছাত্র ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় বলে বিএনপির খসড়া ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উভয় খসড়ায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে তাদের অপরাধের কার্যকাল নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। ছাত্রদের খসড়ায় বলা হয়েছে, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাটের অপরাধগুলোর উপযুক্ত বিচার করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে বিএনপির খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধগুলোর দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

রাষ্ট্রে শোষণ-নিপীড়ন ও বৈষম্যের অবসানে একটি নতুন জনতন্ত্র (রিপাবলিক) প্রয়োজন বলে মনে করেন ছাত্ররা। তাদের খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ এবং ১/১১-কালের রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য আমাদের একটি নতুন জনতন্ত্র (রিপাবলিক) প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রে সব ধরনের নিপীড়ন, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটাবে এবং এ দেশের তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে ধারণ করতে পারবে।

ছাত্ররা তাদের ঘোষণাপত্রকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, এই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আমরাও একটা খসড়া ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করেছি এবং সেটা নিয়ে এখন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, তাদের মতামত নিচ্ছি।

বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। সুতরাং এখানে প্রত্যেকেরই অবদান আছে।

তিনি আরও বলেন, এটার (ঘোষণাপত্র) রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকতে পারে। এটা একটা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে; কিন্তু সেটার সাংবিধানিক ও আইনি গুরুত্ব কী, সেটা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এটা চূড়ান্ত করে আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলব এবং তাদের এটা প্রদান করব।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪১০

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৪৩

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪১০

রাজনীতি

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দুই দিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

দুই দিনের সফরে নেপাল পৌঁছেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। মূলত নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি নেপালে পৌঁছান। দেশটির বিমানবন্দরে আল্লামা মামুনুল হককে অভ্যর্থনা জানান জমিয়তে উলামা নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও […]

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দুই দিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৫

দুই দিনের সফরে নেপাল পৌঁছেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। মূলত নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি নেপালে পৌঁছান।

দেশটির বিমানবন্দরে আল্লামা মামুনুল হককে অভ্যর্থনা জানান জমিয়তে উলামা নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত নেপালের প্রেসিডেন্ট মাওলানা শফীকুর রহমান কাসেমী।

মামুনুল হকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি মাওলানা শায়খ সালেহ আহমাদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

দুই দিনের সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা মামুনুল হকের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪১০