শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আগে সংস্কার হবে, তারপর নির্বাচন : জাতীয় নাগরিক কমিটি

সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের পক্ষে নয় জাতীয় নাগরিক কমিটি। তারা বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর হুমকিধমকিতে সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এখন যারা তাড়াহুড়া করছে, নির্বাচনের পর তারা সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সুতরাং আগে সংস্কার হবে, তারপর নির্বাচন হবে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘শহীদ আসাদ […]

নিউজ ডেস্ক

২১ জানুয়ারী ২০২৫, ১১:৫০

সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের পক্ষে নয় জাতীয় নাগরিক কমিটি। তারা বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর হুমকিধমকিতে সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এখন যারা তাড়াহুড়া করছে, নির্বাচনের পর তারা সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সুতরাং আগে সংস্কার হবে, তারপর নির্বাচন হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘শহীদ আসাদ থেকে শহীদ আবু সাঈদ: গণ-অভ্যুত্থান থেকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের রাজনীতির রোডম্যাপ’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না উল্লেখ করে এই সভায় জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘সরকারকে আমরা বলব শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর হুমকিধমকিতে সংস্কারের পরিবেশ তৈরি না করে, সংস্কারের সূচনা না করে, সংস্কারের বাস্তব রূপ না করে চলে যাবেন না।

এমন যদি হয় বাংলাদেশের জনগণ, ছাত্ররা নতুন কাউকে নিয়ে আসবে, সংস্কারের পরিবেশ তৈরি করবে এবং বাস্তবে রূপ দেবে। সুতরাং সংস্কারের বাস্তব রূপায়ণ এই সরকারকে করে যেতে হবে।’

বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক হতে দেওয়া যাবে না। প্রথমে যাদের বিলোপ হতে হবে, তারা হলো ফ্যাসিবাদী পতিত আওয়ামী লীগ।

এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসেবে আইনি ভিত্তি হিসেবে, ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার ‘মেকানিজম’ (কৌশল) হিসেবে সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করেছে ’৭২–এর সংবিধান। এই সংবিধান দিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করা সম্ভব নয়। এ কারণে বাংলাদেশে একটি নতুন সংবিধান প্রয়োজন।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই বলে সভায় উল্লেখ করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে এখন রাজনীতি করতে হলে বলতে হবে, ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে?আজকে আমরা কেন বিশ্বাস করব যে ক্ষমতায় এলে (তারা) সংস্কার করবে। সুতরাং সংস্কার হবে, তারপর নির্বাচন হবে।’

সারোয়ার তুষার বলেন, সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ম্যান্ডেট’ আছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সংবিধান প্রণয়ন বা সংশোধন অন্তর্বর্তী সরকার করবে না। এই সরকার সংবিধান সংশোধন করবে, এটা একবারের জন্যও বলা হচ্ছে না।

সংবিধান সংস্কারের যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটা এই সরকার করে দেবে। সংবিধান প্রণয়ন কিংবা সংস্কার হবে গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

কেন গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে হবে—এর ব্যাখ্যা হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটির এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘নির্বাচিত সংসদের সংবিধান প্রণয়ন করা বা সংস্কার করার ম্যান্ডেট থাকে না।

যাঁরা ম্যান্ডেটের প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের আমরা পাল্টা বলতে চাই, আপনার ভুল করছেন। সংসদে গিয়ে আপনার কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। সেটি করবেন বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে। কিন্তু যখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় নতুন একটি সংবিধান বানাতে হবে, তখন আসলে আপনাকে যেতে হবে গণপরিষদে। আমরা সেই গণপরিষদের কথা বলছি।’

সারোয়ার তুষার বলেন, গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়ন করার পরে তা আইনসভায় রূপ নেবে। অর্থাৎ সংসদে রূপ নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুটি নির্বাচনের রোডম্যাপ (পথনকশা) থাকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর বড় তাড়াহুড়া, সে জন্য আমরা দুটি নির্বাচনের রোডম্যাপ বলিনি।

একটাই নির্বাচন হবে, সেটা গণপরিষদ নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের পরে ওই গণপরিষদই সংসদে, আইনসভায় রূপ নেবে। এটা পৃথিবীর বহু দেশে চর্চিত বিষয়। আমাদের দেশেও এটা করতে চাই। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত হওয়া উচিত।’

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, সংগঠক মশিউর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ ও প্রীতম দাশ, নির্বাহী সদস্য ইমন সৈয়দ, হাসান আলী, জয়নাল আবেদীন ও সহমুখপাত্র সালেহ উদ্দিন।

সভার অন্য বক্তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান আলী বলেন, সংস্কার ও বিচার ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনো আলাপেই যাওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের একমত হওয়া উচিত।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৭

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০