বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের হৃদয়ে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনৈতিক তৎপরতা, চলমান বিচার কার্যক্রম এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নিয়েও কথা বলেন তিনি।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গত ১৫ আগস্টের আগে কয়েক মাস ধরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয়তা দেখালেও ওই দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না। শুক্রবার গুলশানে জুমার নামাজের সময় একটি মিছিলের পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ এত সহজ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা এবং বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী মতের মানুষের গুম-খুনের অভিযোগের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি থেকে দেশের মানুষ সরে আসবে না বলে দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিষয়ে রাকিব বলেন, দল দুটি শুধু আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়, তাদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন এবং পলাতকদের বিচারও চলমান।
তার দাবি, অধ্যাপক ড. ইউনূসের শাসনামল ও বর্তমান সরকারের গত সাত মাসে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায় হয়েছে। বিএনপি সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাকিব বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার ও রায় কার্যকর এখন সময়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের হৃদয়ে দলটির কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়েও মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, বিরোধী দল জামায়াত যদি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের মতো ‘ঐতিহাসিক বেঈমানী’ না করে, তাহলে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ পুনর্বাসিত করতে পারবে না।
নিজ দলের অ10ভ্যন্তরীণ আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, সংগঠনের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনা করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রশ্নে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।
প্রয়োজনে রাজপথেই সবকিছুর ফয়সালা করা হবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তখন দেশের জনগণও তাদের সঙ্গে থাকবে।
পোস্টের শেষ দিকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ৫ আগস্টের অনেক ‘হিসাব-নিকাশ’ এখনো বাকি রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনুশোচনা না করলে দেশের জনগণ দ্বিতীয়বার আর কোনো ভুল করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।