বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কুবিতে বাসের সিটে বসা নিয়ে জুনিয়রকে থাপ্পড়ের অভিযোগ, প্রক্টর অফিসে সমঝোতা

‎রাফি হোসেন, কুবি প্রতিনিধি : ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা সমঝোতা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আটটার বাসে কুমিল্লা […]

কুবিতে বাসের সিটে বসা নিয়ে জুনিয়রকে থাপ্পড়ের অভিযোগ, প্রক্টর অফিসে সমঝোতা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৯

‎রাফি হোসেন, কুবি প্রতিনিধি :

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা সমঝোতা করা হয়।

৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আটটার বাসে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে উভয় পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

‎ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরেফিন মেহেদী এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসের ফিরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে আরেফিন মেহেদী ও আবু বকরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ক্যাম্পাসে এসে বাস থেকে নামার পর আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে তার পরিচয় জানতে চাই। এসময় আবু বকর নিজের পরিচয় জানালে আরেফিন তাকে থাপ্পড় দেয় বলে অভিযোগ করেন আবু বকর। পরে উভয় শিক্ষার্থীর বিভাগ এবং হলের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে তৈরি হয়।

‎এক পর্যায়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে যান। এ সময় আবু বকরও আরেফিনের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় আবু বকরকে মারা জন্য তাড়া করে আরেফিন মেহেদীর হলের শিক্ষার্থীরা। এবং আবু বকর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বিজয়-২৪ হলে গিয়ে আশ্রয় নেন।

ঘটনার পর উভয় শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতায় মীমাংসা করা হয়।

‎আবু বকর বলেন, “আমি বাসের জানালার পাশে বসলে আরেফিন ভাই আমার পাশে এসে বসেন। তার বসতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি আমাকে একটু সরে বসতে বলেন। আমি সরে বসে তাকে জায়গা করে দিই। বাস থেকে নামার পর তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার কান বরাবর চড় মারেন। পরে তিনি আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে আমিও ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দিই।”

‎‎আরেফিন মেহেদী বলেন, “বাসে ওঠার পর সিট ফাঁকা থাকায় আমি আবু বকরের পাশে বসি। তবে আবু বকর অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে বসায় আমার বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ সময় তাকে একটু সরে বসতে বললেও সে সরে বসেনি। পরে বাস থেকে নামার সময় আবু বকর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর বাস থেকে নেমে আমি তার পরিচয় জানতে চাই এবং তাকে একটি ধাক্কা দিই। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।”

‎সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আবু বকর ছিদ্দিক মাসুম বলেন, “বাসে বসাকে কেন্দ্র করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরোধ তৈরি হয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করেছি। উভয় পক্ষই সুষ্ঠুভাবে বিষয়টির সমাধানে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না করার কথাও তারা জানিয়েছেন।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।