সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘তরুণরা কিন্তু জাগ্রত আছে।’
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্যান্য দশম গ্রেডের পদের মতো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগও দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে হয়ে আসছে। মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা জানানোর পর পিএসসি পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়।
তার দাবি, এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চললেও বর্তমান সরকার নিয়োগ কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পিএসসির অধীন নিয়োগ ত্বরান্বিত করতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত প্রশ্ন করেন, পিএসসি কি নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না কিংবা প্রতিষ্ঠানটি কোথাও এমন অক্ষমতার কথা জানিয়েছে কি না।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের এমন উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদ থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
সরকারকে সতর্ক করে হাসনাত বলেন, ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই ঘটনা ভুলে গেলে মনে রাখতে হবে, দেশের তরুণরা এখনো জাগ্রত রয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার কোনো চেষ্টা করা হলে তা কখনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।