বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর নতুন জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার সাক্ষাতের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন রাকিব।
পোস্টের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি লেখেন, সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের’ সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ নেতা এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রাকিব। তাদের শ্রম ও প্রচেষ্টায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে রাকিব বলেন, তাদের শ্রম ও ত্যাগে রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচি সফল হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিও তারা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে ভূমিকা পালন ছিল রাকিব-নাছির কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুলত্রুটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ নন।’ তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সবশেষে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন রাকিব। নতুন জীবনে নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।