ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিরোধী দল শুধু বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছে না। তার দাবি, বর্তমান সরকারই জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া সব রাজনৈতিক দল জাতীয় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, “নোট অব ডিসেন্ট”সহ জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি জানান, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অনেকে রাজনৈতিক সভায় দাবি করছেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। অথচ সংবিধান সংশোধনবিষয়ক ১৭ সদস্যের সংসদীয় কমিটিতে সাতজন বিএনপির সংসদ সদস্য, পাঁচজন অন্যান্য সংসদীয় দলের প্রতিনিধি এবং পাঁচটি আসন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামী সময় চেয়েছিল। পরবর্তী বাজেট অধিবেশনেও দলটি তাদের সদস্যদের নাম দেয়নি এবং প্রক্রিয়াটিতে যুক্ত হতে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণই বিচার করবেন, কারা শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছে আর কারা বাস্তবে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তবে আমি আশাবাদী, দেশের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীও শেষ পর্যন্ত এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং তাদের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেবে।’
‘ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ভাবাদর্শের রূপান্তর ও বাস্তবতার অভিঘাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, চাকসুর জিএস ও এজিএস, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।