বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, গত পাঁচ মাসে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং কেবল প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ধারাকে ধারণ করছেন—এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তার প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি দুর্নীতি না চান, তাহলে তার নেতৃত্বে কীভাবে দুর্নীতি চলতে পারে? যখন সবকিছু তার নির্দেশনায় পরিচালিত হয়, তখন দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন?’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চাঁদাবাজি নির্মূল করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যদি আন্তরিকভাবে এসব পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ তাদের পাশে থাকবে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চললে জনগণ তা মেনে নেবে না। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মুক্ত হবে। তবে এর জন্য হয়তো আরও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে।’ এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন শ্রমিকরা। তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে শ্রমিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এরপর ছাত্র এবং তারপর সাধারণ মানুষের অবস্থান।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত। তার মতে, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হলে ভবিষ্যতেও দেশপ্রেমিক ও সাহসী প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
ভোটাধিকার ও গণরায়ের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সেই রায়কে সম্মান জানাতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকেই অসম্মান করা।’