বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও একই পথে এগোচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্রিন গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী।
বক্তব্যে মোবারক হোসাইন বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদ ও যুদ্ধাহতদের অবদানের কারণেই আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তাদের অবস্থার কথা ভুলে গেছেন। সরকার তাদের জন্য কার্যকর কিছু করবে বলে মনে হয় না। ফ্যাসিস্ট সরকার যে পথে গেছে, বর্তমান সরকারও সে পথেই হাঁটছে।’
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায় এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি থেকে দলটি সরে আসবে না। তাঁর ভাষ্য, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ছাড়া সরকারকে কোনো ছাড় দিতে দল প্রস্তুত নয়। এ দাবিতে জামায়াত রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, ‘দেশে আরেকটি অরাজক পরিস্থিতি আমরা চাই না। তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে’ ক্ষমতায় এসেছে। যদিও দেশের স্বার্থে জামায়াত সংসদে অংশ নিয়েছে, তবে সরকারের ‘অন্যায় আবদার’ আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মো. আব্দুল জব্বার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির আলহাজ মুমিনুল হক সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে মো. মোবারক হোসাইনের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।