পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় একটি মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তার দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, দায়িত্বের বাইরে গিয়ে যদি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। তার দাবি, সেদিন বড় ধরনের একটি ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণ প্রতিহত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানের প্রত্যাহার দাবি করেন। তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এমপি মোমেন অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। তার দাবি, হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং ওসি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।
জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয় এবং এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় বিএনপি তাদের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্রের’ পরিচয় দিয়েছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই দিন তাকে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করতেও দেওয়া হয়নি।
এমপি মোমেন বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। তার দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও সেই মানসিকতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
নিজেকে মসজিদে ইমামতি করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের অনুরোধে তিনি ইমামতি করেন। এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার বাবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং তিনি সেই পরিবারের সন্তান। হামলার মাধ্যমে তাকে ভয় দেখিয়ে ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলেও তিনি দেশ ছাড়বেন না বলে জানান।
বিকেলে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নাটক সাজানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন এমপি মোমেন। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তিনি তাদের দলের কোনো কর্মী নন।
সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।