রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কেন পদত্যাগ করেছেন, তা নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ তাদের দল আগেই মনে করেছিল, তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন যেন ন্যায়নিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জামায়াত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, যদি সেই ধরনের বিশ্বাসযোগ্য কোনো আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমরা চিন্তাভাবনা করেই আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করব।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেন এমন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, দেশের মধ্যেই উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। শুধু তার ব্যাপারে না, সবার ব্যাপারেই চাই—প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, যেই হোন, দেশের মধ্যেই চিকিৎসা নিন।
জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমরাও মানুষ : এদিন সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউটশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে রুকন সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না। কেউ ভুল করলে তাকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।
নেতাকর্মীদের নফস ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সহনীয় মাত্রার কোনো লঙ্ঘন হলে সংশোধনের মাধ্যমে তাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু সেই মাত্রা যদি গুরুতর হয়, তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হবে। আর সেই বার্তা আমারসহ আমাদের সবার জন্য। সাবধান, সবাই সাবধান।