জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের জন্য বেশ বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে এই অর্জন উদযাপন করতে গেলে তার মনে অজানা শঙ্কা ও আতঙ্ক এসে ভর করে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এই অর্জন বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ‘আমরা এই অর্জনকে প্রাণ ভরে উদযাপন করতে পারতাম। কিন্তু যখন আমরা এই অর্জনকে উদযাপন করতে যাই, তখন আমাদের মনে যেন এক অজানা শঙ্কা এবং আতঙ্ক এসে ভর করে।
কারণ, আমরা জানি এই জাতিসংঘকে যতই বলা হোক যে, এটি বিশ্বের সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ, কিন্তু আদতে এই সংস্থাটি এখন পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তল্পিবাহক ও স্বার্থরক্ষার ভ্যানগার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তার মতে, এই সংস্থার কোনো শীর্ষ পদে কেউ বসেছেন আর তার সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি আমেরিকার কোনো স্বার্থ নেই, এ কথা বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বলা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশের বসার খবর আমদেরকে পুলকিত করার আগে অজানা এমন আরও নানান শঙ্কা আমাদেরকে থমকে দেয়।
খলিলুর রহমানের কর্মকাণ্ডের প্রতি আস্থা আনার আগে দশবার ভাবতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই খলিলুর রহমানের হাত ধরেই আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশ এমন এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, যেই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অন্তহীন দাসখতের ফাঁদে পতিত হয়েছে।
আমাদের তো ভয় হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসন লাভের মধ্য দিয়ে সেই চুক্তির পুরস্কারই পেলেন কি না ড. খলিলুর রহমান!’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ না করুক, এই সভাপতির আসন প্রাপ্তি যেন সেই জমিদারের প্রজাদের মতো না হয়, যাদেরকে জমিদার ডেকে নিয়ে ভালো খাইয়ে-পরিয়ে বিনিময়ে সব জমিজমা ও বাড়ি ভিটাসহ লিখে নেয়, আর প্রজারা মজাদার খাবারের ঢেঁকুর তুলে নতুন কাপড় পরে আনন্দে নাচতে থাকে।’
বাংলাদেশের এই অর্জনের উদযাপনটা আপতত শিকেয় তুলে রাখছেন জানিয়ে জমিয়ত সভাপতি বলেন, আমরা দেখব, ড. খলিলুর রহমান এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বসভা থেকে বাংলাদেশের কোন কোন স্বার্থ উসুল করে আনতে পারেন?
আমাদের সমস্যাগুলোর কতটুকু সমাধান করতে পারলেন? রোহিঙ্গা সংকটের কতটুকু সমাধান হলো? প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক উস্কানি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ, সীমান্তে আগ্রাসন ও তাদের অন্যায় আচরণগুলো বিশ্বসভায় কতটুকু তুলে ধরতে পারলেন?
আমেরিকার সঙ্গে কৃত চুক্তি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারলেন?’
তিনি বলেন, এসব কিছু বিবেচনা করে যেদিন আমরা ইতিবাচক কিছু দেখতে পাব, সেদিনই এই অর্জনকে আমরা স্বার্থকভাবে উদযাপন করব। অন্যথায় এই প্রপ্তি এই জাতির কপালে সাম্রাজ্যবাদীর গোলামির তিলক হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
দেশের ভাগ্যে কলঙ্ক জুটবে না আশা প্রকাশ করে জমিয়ত সভাপতি বলেন, ‘জাতির জন্য যেন ভালো কিছুই অর্জিত হয়, মহান রবের দরবারে সেই প্রত্যাশাই করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হন।’