রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বরং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১১বার পেছানো হয়েছে। ১৮ মাস পার করেছে অন্তর্বতী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিদায় নেবে ইউনূস সরকার। ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৪ বছর আগে নৃশংসভাবে সংঘটিত সাগর-রুনি […]

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

নিউজ ডেস্ক

১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৫

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বরং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১১বার পেছানো হয়েছে।

১৮ মাস পার করেছে অন্তর্বতী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিদায় নেবে ইউনূস সরকার। ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৪ বছর আগে নৃশংসভাবে সংঘটিত সাগর-রুনি হত্যার বিচার আলোর মুখ দেখেনি।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন তদন্তকারীরারও। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য অন্তর্বতী সরকারের সময়ে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, জানি না। আমাদের তদন্তে এখনো কোনো অগ্রগতি নাই। আমরা হত্যার মোটিভ এবং আসামিদের এখনো চিহ্নিত করতে পারিনি। আমরা হতাশ।

সন্তান হত্যার বিচার পাওয়ার বিষয়ে হতাশ সাগরের মা সালেহা মনির বললেন, আর কী হবে! আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। কোনো সরকারই কিছু করবে বলে মনে হয় না।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি তাদের ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। ঘটনার পর ১৪ বছর পার হলেও এই হত্যার মোটিভ এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি সরকার।

অন্তর্বতী সরকারের আমলে ১১ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরে থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই মামলার তদন্ত আসে পিবিআই’র হাতে। গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গত ৫ জানুয়ারি এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১২৩ বার পেছানো হলো। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে পেছানো হয়েছে ১১২ বার আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পেছানো হলো ১১ বার।

অগ্রগতি নেই অন্তর্বর্তী সরকারের টাস্কফোর্সেরও

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে। টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামালকে।

এই টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই হিসাবে গত বছরের মার্চে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সময়মতো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি টাস্কফোর্স।

এরপর এই কমিটি আরো ছয় মাস সময় নিলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এরপর গত বছরের ২৩ অক্টোবর তারা উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়ে আরো ছয় মাস সময় নেয়। আগামী এপ্রিল মাসে এই সময় শেষ হবে। অবশ্য এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নেয়ার কথা।

কোথায় আটকে আছে তদন্ত?

এই মামলায় বিভিন্ন সময় মোট আট জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন কাউকে আটক করেনি। যে আটজনকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছয়জন এখনো কারাগারে আছেন। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

আটকদের দুইজন বাদে সবাই গ্রিল কাটা চোর ও ডাকাত দলের সদস্য। একজন বাসার দারোয়ান এবং আরেকজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

ওই আটজনসহ মোট ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছিল র‌্যাব। ঘটনাস্থল থেকে তারা সাগর-রুনি ছাড়াও আরো দুইজন পুরুষের ডিএনএ পায়। কিন্তু যে ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের সঙ্গে অজ্ঞাত ওই দুই পুরুষসহ সন্দেজভাজন কারোর ডিএনএ ম্যাচ করেনি।

ডয়চে ভেলের হাতে আসা তদন্ত সংশিষ্ট কিছু ডকুমেন্টে দেখা যায়, দুইজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেই ডিএনএ’র ভিত্তিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ছবি আঁকা সম্ভব। সেই ছবি আঁকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থও পরিশোধ করেছিল র‌্যাব। কিন্তু সেই ছবি আর আসেনি।

এর বাইরে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগরের হাত বাঁধা ওড়না ও রুনির পরনের কাপড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছিল র‌্যাব। পাশাপাশি সাগর-রুনির ভাড়া বাসার ভাঙা গ্রিলের অংশ, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙা গ্রিলের পাশে পাওয়া মোজা, দরজার লক, দরজার চেইন ও ছিটকিনির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠানো হয়।

এখন পর্যন্ত এই মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তকারীরা ১৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু কোনো পর্যায়েই তদন্তকারীরা হত্যার মোটিভ এবং জড়িতদের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি। কার্যত ডিএনএ টেস্টের পর এই মামলা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল বলেন, আসলে আমরা এখনো হত্যার মোটিভ ও আসামিদের চিহ্নত করতে পারিনি। এখন পর্যন্ত আমরা হতাশ। মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নাই। আগে যা ছিলো, সেই অবস্থায়ই আছে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা তো বলতে পারছি না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে যে আটজনকে আটক করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আমরা এখানো পাইনি। আর যে ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে সেই ডিএনএ কারো সাথে ম্যাচ করেনি। ফলে আমরা অন্ধকারেই আছি।

তার কথা, যাদের আগে আটক করা হয়েছে তারা তো সন্দেহভাজন। তাদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। আগের তদন্তকারীরা যেসব কাজ করেছেন, তদন্ত করেছেন সবই আমরা আবার দেখেছি। কিন্তু তাতে মামলা ডিটেকট করার মতো কোনো কিছুই আমরা পাই নাই। তারপরও আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও এখনো কোনো আশার খবর নেই।

আর ধরেন ১৪ বছর আগে এই হত্যাকাণ্ড। যারা হত্যা করেছে তখন তাদের বয়স যদি ৩০ বছর হয়, এখন ৪৪ বছর। এরকম অনেক সমস্যা আছে, বলেন তিনি।

এই মামলায় নিয়োজিত ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডয়চে ভেলেকে বলেন, মামলার তদন্ত পর্যায়ে আমাদের কিছু করার নেই। তদন্তকারীরা চার্জশিট দিলে আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কাজ করব। কিন্তু তদন্তকারীরা কোনো তদন্ত করছে বলে মনে হয় না। শুধু আদালত থেকে সময় নেয়। আমাদেরও প্রশ্ন যে, এই সরকারের সময়েও কেন মামলাটির তদন্ত শেষ করা গেলনা।

স্বজনদের হতাশা

রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমি ও সাগর-রুনির ছেলে মেঘ দেখা করি। তখন প্রধান উপদেষ্টা মামলার খোঁজ খবর নেন। তিনিও আমাদের কাছে মামলার অগ্রগতির খবর জানতে চান, ওই টুকু। তদন্তকারীরা এখন আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। আমরাও আর খোঁজ নেই না।

এই সরকারের আমলে তো আর হত্যার তদন্ত হলো না। আশা করেছিলাম হবে। কিন্ত সে আশা পুরণ হলো না। ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয় না, হতাশার সঙ্গে বলেন নওশের।

সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, প্রফেসর ইউনূস আমাকে ডাকেনও নাই। আমিও দেখা করার চেষ্টা করিনি। তবে আশা করেছিলাম এই সরকার অন্তত: সাগর-রুনি হত্যার বিচার করবে। তদন্ত শেষ করবে। কিন্তু কিছু তো করল না। আসলে এটার বিচার কেউই করবে না। এর শেকড় অনেক গভীরে মনে হয়, বলেন তিনি।

তার কথা, আমি বিচারের আশা তারপরও ছাড়িনি। কেউ বিচার না করলেও আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। তিনি নিশ্চয়ই বিচার করবেন।

তিনি বলেন, পিবিআই দায়িত্ব নেয়ার পর একদিন এসেছিল। কিন্তু তাদের কথা আমার পছন্দ হয় না। তারা কী করছে, তাও আমি বুঝতে পারছি না।

সাগর-রুনির পরিবারের এমন অভিযোগার জবাবে পিবিআই’র প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যোগাযোগ করে কী করব! তাদের তো নতুন কোনো খবর দেয়ার মতো আমাদের কাছে কোনো তথ্য নাই। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী বলব! সাগরের মা তো তদন্ত নিয়ে হতাশ। আর আমরাও হতাশ।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমীর কুমার দে। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।