জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় এসেছে। তাই যদি জুলাই সনদকে অসাংবিধানিক বা সংস্কারকে অবৈধ বলা হয়, তবে একই যুক্তিতে বিএনপি সরকারের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম দাবি করেন, জনগণ যেমন ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে, তেমনি গণভোটেও বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দপ্তরগুলোতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রভাব বাড়ছে। তার ভাষ্য, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিরপেক্ষ পরিচয়ের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর ফলে টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সময়মতো প্রতিবাদ না করলে তা একসময় আরও বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত ৮ হাজার কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প শুধুমাত্র বিএনপির সংসদ সদস্যদের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি সরকার কি শুধু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত এমপিদের প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি দেশের ৩০০ আসনের সব মানুষের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জলঢাকার পথসভা শেষে রাতে নেতারা নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আরেকটি পথসভায় অংশ নেন।