২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সোমবার সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন—আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ একযুগ ধরে একই কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, ভয় দেখানো ও হত্যা করতে যুবলীগ–ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেছে, যার সূচনা হয়েছিল শাপলা চত্বরে রক্তপাতের মধ্য দিয়ে।
পোস্টে শফিকুল আলম ২০১৩ সালের সেই রাতের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, মতিঝিল–দিলকুশা এলাকায় তখন কয়েক দশক হাজার হেফাজত সমর্থকের ভিড়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলা চত্বর ও আশপাশের সড়কে লাশ আসতে শুরু করে, যদিও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত ছিলেন না। এএফপি’র তখনকার ঢাকা কার্যালয়ের জানালা থেকেই তিনি প্রথম সেই লাশগুলো দেখতে পান।
রাত আটটার দিকে তিনি প্রথম বড় তথ্য পান—শাহিদবাগ–মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন হেফাজত কর্মীর লাশ নেওয়া হয়েছে, যাদের সবার মাথায় গুলির চিহ্ন। বহুবার চেষ্টা করে তাঁর সহকর্মী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় উৎসে নিশ্চয়তা আসার পর মৃত্যুর সংখ্যা স্থানীয় গণমাধ্যমের রিপোর্টকে ছাড়িয়ে যায়। পরদিন কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আরও লাশ পাওয়া যায়।
পোস্টে আরও বলা হয়, শাপলা চত্বর ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বড় হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিবহন বন্ধ থাকায় হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন হেফাজতের বহু সমর্থক; ভোরে বিডিজি সদস্যরা তাদের ওপর গুলি চালালে প্রায় ২০ জন নিহত হন বলে হাসপাতালসূত্রের বরাতে তিনি দাবি করেন। যদিও সে সময় সরকার, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পল্টন ও আশপাশে বহু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল অস্ত্রধারী যুবলীগ–ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে দুজন—জাহিদ সিদ্দিকী তারেক ও রিয়াজ মিল্কির নামও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে শফিকুল আলম বলেন, “এই একই কৌশল আওয়ামী লীগ পরবর্তী এগারো বছর ধরে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে পড়ে।”