বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীন ভারত প্রায় আইনগতভাবেই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য। তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে নয়াদিল্লিকে বাংলাদেশের আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে বিলম্ব ছাড়াই তাকে হস্তান্তর করা উচিত।
শনিবার ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে মুনিরুজ্জামান বলেন, “আমাদের সঙ্গে ভারতের একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অধীন ভারত আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ যেভাবে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠাতো, ভারতকেও একই মানদণ্ডে আচরণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন ও নীতিকে সম্মান করতে হলে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে মর্যাদা দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক আইনগত মানদণ্ড পূরণ করেছে, এবং এই ধরনের রায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক নয়, বরং আইনগত অবস্থান নেওয়া উচিত।
মুনিরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন—“যদি বাংলাদেশ দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিকদের আশ্রয় দিত এবং ভারত ফেরত চাইলে আমরা না পাঠাতাম, তবে নয়াদিল্লি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাত?” তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ না করা বন্ধুসুলভ আচরণের পরিপন্থী। তাই ভারতকে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতার দায়ে হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ের পরপরই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ‘অবিলম্বে হস্তান্তর’ করার আহ্বান জানায়।
ঢাকা জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের আশ্রয় দেওয়া হবে ‘অমিত্রসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান।’
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ওই অধিবেশনে মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও অংশ নেন।