মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শেখ হাসিনার রায় ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী 

রাজধানীর ট্রাইব্যুনাল এলাকা, আদালতপাড়া, শহরের প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে চেকপোস্ট, বাড়তি টহল এবং যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নিউ ইস্কাটন, আগারগাঁও, বিমানবন্দর, হাতিরঝিল, মিরপুর ও হাজারীবাগসহ বেশ কিছু এলাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি চলছে। ডিএমপি পুরো শহরে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে।

নিউজ ডেস্ক

১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৭

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগের দিন থেকেই চার জেলায় বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও বিভিন্ন নাশকতা চালায়। রায়কে কেন্দ্র করে তাদের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে বাসে আগুন, ককটেল বা বোমা মেরে নগরবাসীর জীবনহানির চেষ্টা করলে নাশকতাকারীদের গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সেনা মোতায়েনের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর ট্রাইব্যুনাল এলাকা, আদালতপাড়া, শহরের প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে চেকপোস্ট, বাড়তি টহল এবং যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নিউ ইস্কাটন, আগারগাঁও, বিমানবন্দর, হাতিরঝিল, মিরপুর ও হাজারীবাগসহ বেশ কিছু এলাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি চলছে। ডিএমপি পুরো শহরে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন,

“কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তাকে গুলির অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আছে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দিলে বা ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তো বসে থাকবে না।”

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি অতিরিক্ত টহল দিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সেনা মোতায়েনের চিঠি:
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ট্রাইব্যুনাল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ করেছে। রায় ঘোষণার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পূর্বেও রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা হলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

মধ্যাঞ্চলের তিন জেলা ঝুঁকিতে:
নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সেতু, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অফিস লক্ষ্য করে নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে সড়ক–মহাসড়ক অবরোধ ও বড় ধরনের শোডাউনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিদেশি মিডিয়াকে লক্ষ্য করে সহিংসতার ভিডিও ছড়ানোরও পরিকল্পনা আছে বলে গোয়েন্দাদের ধারনা। তারা আশঙ্কা করছে—এ সুযোগে প্রতিরোধ অক্ষকে আঘাত করতে ভারতীয় স্টাবলিশমেন্ট এসব ভিডিও ইউরোপ–আমেরিকায় ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া অনলাইনে নাশকতামূলক কর্মসূচির প্রচারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পদক্ষেপ:
পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। পলাতক ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আর্থিক লেনদেন এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রায় যেভাবেই আসুক, তা কার্যকর হবে। নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতিতে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন,

“আগামীকাল যেটাই রায় হোক, তা কার্যকর হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।”

নিরাপত্তা সংস্থার সুপারিশ:
রায় ঘোষণার পর তিনদিনকে

“উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতিকে ঘিরে কোনো অভ্যন্তরীণ অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী সক্রিয় হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলেও নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন,

“নাশকতা বা সংঘর্ষের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।”

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।