জুলাই সনদ ইস্যুতে গণভোটের পক্ষে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের চতুর্থ দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন,
“আজকের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “দলীয় অবস্থান ছাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন একটি সাধারণ সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার যে প্রস্তাব ছিল, তাতে অনেকে এখন নমনীয় অবস্থানে এসেছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক।”
তিনি জানান, কমিশন আশা করছে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে একটি স্পষ্ট সুপারিশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। “প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, আমরা ওই সময়সীমার মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব,” বলেন আলী রীয়াজ।
তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে ইতোমধ্যে তিন-চতুর্থাংশ রাজনৈতিক দলের কাছে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কেউ কেউ নাম জমা দিয়েছেন, কেউ এখনো দেননি। তিনি দলগুলোকে দ্রুত নাম জমা দিতে আহ্বান জানান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পুনরায় বৈঠকে বসবে কমিশন।
বৈঠকের বিরতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তি তৈরি করার জন্য গণভোটে বিএনপিসহ সব দল একমত। তবে আমরা চাই, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হোক।” তিনি বলেন, জনগণ গণভোটে অভ্যস্ত নয়, তাই নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি আয়োজন করা যেতে পারে। “গণভোট হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো বাধা থাকবে না। জনগণকে জটিলতায় না ফেলে সহজভাবে এগোলে আমরাও বাঁচি, জাতিও বাঁচে।”
জামায়াত নেতা আরও বলেন, “গণভোট হলে এটি কেউ চ্যালেঞ্জ করলেও টিকবে না। সংসদও এটাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। যদি ফলাফল আমাদের বিপক্ষেও যায়, আমরা জনগণের রায় মেনে নেব।”
রবিবারের এই বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও উপস্থিত ছিলেন।