রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ২৫ আগস্ট সরাসরি উপস্থিত থাকবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায়।
প্রেস সচিব জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বমঞ্চে পুনরায় কেন্দ্রবিন্দুতে আনার জন্য তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ২৪-২৬ আগস্ট কক্সবাজারে।
এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সবচেয়ে বড় সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ১৭০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া কাতারের দোহাতেও আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
কক্সবাজারের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০টি দেশ, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ সম্মেলনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
শফিকুল আলম বলেন, “রোহিঙ্গারা যে মানবিক সংকটের মধ্যে আছে, সেটিকে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা সহজ নয়। তবে কক্সবাজারের এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর সরাসরি আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিধ্বনিত হবে।”
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে তারা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা থাকলেও সংকটের দীর্ঘসূত্রতায় বাংলাদেশ মারাত্মক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্মেলন রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও গুরুত্বের সঙ্গে তোলার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করছে—সে বার্তাও আন্তর্জাতিকভাবে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।