নেত্রকোনা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় আশফিকুর রহমান ভূঞা ৪৭তম বিসিএসে উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার এবং পরে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।
আশফিকুর রহমান ভুঞা ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর “কৃষি অর্থনীতি” বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের কৃতি শিক্ষার্থী।
রোববার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে। এবছর বিভিন্ন ক্যাডারে ১হাজার ৩২০জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১জনসহ ১হাজার ৫২১জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় কৃষি ক্যাডারে ৮ম স্থান লাভ করেন তিনি।
আশফিক নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম শিক্ষক পরিবারের সন্তান। তার শিক্ষা জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দক্ষিন রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।
পরে কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে টেলেন্টপুলে জেএসসি বৃত্তি লাভ করেন। ২০১৫ সালে বাজিতপুর আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় আশফিকুর রহমান ভুঞা।
তিনি ঢাকা সিটি কলেজ ভর্তি হয়ে ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ সেশনে কৃষি অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কৃতিত্বের সাথে ১ম শ্রেণী অর্জন করেন।
বিসিএসে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব আরও উজ্জ্বল করেছেন। বিশেষ করে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উপপরিচালক/উপজেলা বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া তাঁর ধারাবাহিক প্রস্তুতি, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে আশফিক বলেন, আল্লাহর রহমত, বাবা-মা ও আত্নীয় স্বজনদের দোয়া এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না।
বিসিএসে ভালো ফল করার পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা, ধৈর্য এবং নিজের উপর আস্থা রাখা সবচেয়ে বেশি সহায়ক ছিল। যারা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের বলব পরিকল্পনা করে পড়াশোনা করুন। হতাশ না হয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান, সাফল্য আসবেই।