সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে টানা দুই সপ্তাহ ধরে অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের দেওয়া একটি রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সংসদে অংশ নেননি। এ বিষয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংসদ সচিবের কাছে লিখিত নোটিশও দিয়েছেন তিনি।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সংসদে তাকে অপমান করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে অনুরোধ করলেও তিনি এখনো সেই ঘটনার কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
গত ১৪ জুন বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি সংসদে উপস্থিত বোরকা পরিহিত কয়েকজন নারী সদস্যকে ইঙ্গিত করেও বক্তব্য দেন। এতে সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে আবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন।
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেও ডেপুটি স্পিকার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
ঘটনার পর থেকেই সংসদ বর্জন করে আসছেন মনিরুল হক চৌধুরী। তার দাবি, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে কোনো অসংসদীয়, সংবিধানবিরোধী বা শিষ্টাচারবিরোধী বিষয় ছিল না। তিনি সংসদের কার্যবিবরণী এবং ঘটনার অডিও-ভিডিও সংগ্রহ করে স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, পুরো বক্তব্য পর্যালোচনা করার পরও তার বিশ্বাস, তিনি কোনো অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেননি। কোন বক্তব্য সংবিধান, সংসদীয় শিষ্টাচার বা বিধির পরিপন্থী হয়েছে, তা সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী জানতে চেয়ে তিনি ব্যাখ্যা চেয়েছেন।