সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ চারজনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক শিশুকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।
রোববার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে একটি প্রাইভেটকারে করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আনা হয় আসামিদের। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা ও আইনজীবীরা তখন ‘চাঁদাবাজ’, ‘চাঁদাবাজ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগান শুনে মাথা নিচু করে রাখেন ছাত্রনেতারা।
গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ জুলাই রিয়াদ ও তার সহযোগীরা সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাদীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তারা।
পরে ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপরও আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করে তারা বারবার বাসায় গিয়ে হুমকি দেন। শেষমেশ ২৬ জুলাই গুলশান থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এদের কোটি কোটি টাকা দরকার কেন?” আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করেন, তারা পুলিশকে আগেই ফোন করেছিলেন এবং ঘটনাটি একতরফাভাবে উপস্থাপিত।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও মো. ইব্রাহিম হোসেনের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার আরও এক অভিযুক্ত শিশু আমিনুল ইসলামকে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ।