ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে সরকারি প্রস্তাব এসেছে। ভারতীয় হাই কমিশন মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে, যদি আহতদের ভারতীয় হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে অবহিত করার জন্য যেন দ্রুত জানানো হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন,
“সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা দিতে ভারত প্রস্তুত।” তার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ভারতীয় হাই কমিশনের এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে আছড়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৭৮ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের অনেকেই শিশু শিক্ষার্থী ও অধিকাংশই গুরুতর দগ্ধ।
এই ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ স্কুল-ভিত্তিক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে শোক আর ক্ষোভের ছায়া। প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধবিমান কীভাবে একটি স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত হয়? কে দেবে এই ট্র্যাজেডির জবাব?
মঙ্গলবার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পরিদর্শনে এসে শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানান,
“চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থীদের যতজনকে সম্ভব বিদেশে নেওয়া হবে চিকিৎসার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “সিঙ্গাপুর থেকে একটি মেডিকেল টিম আসছে। যদি তারা প্রয়োজন মনে করে, তাহলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। আমরা সর্বোচ্চটা করবো।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের শরীরের একটি বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি চরম দুঃখজনক ঘটনা নয়, এটি একটি ভয়াবহ নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রকাশ। একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান কীভাবে একটি শিশুদের স্কুলে বিধ্বস্ত হলো, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।