শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সেই রক্তঝরা জুলাই — যা বদলে দিয়েছিল ইতিহাস

তবু সরকার অনড় থাকে। ফলাফল—বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় ‘বাংলা ব্লকেড’। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ অবরোধ চালায়, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের হাতে আহত হন বহু শিক্ষার্থী।

নিউজ ডেস্ক

০১ জুলাই ২০২৫, ০২:৩২

আজ পহেলা জুলাই—রক্তে লেখা সাহসিকতা, ত্যাগ আর গণজাগরণের মাস। এই মাসটির গুরুত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনভাবে ছাপ ফেলেছে, যা আর কোনো বর্ষপঞ্জির পাতায় নিছক দিনগণনা হয়ে থাকতে পারে না।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন বদলে দিয়েছে রাজনৈতিক বাস্তবতা, জাগিয়ে তুলেছে গণচেতনাকে, আর রেখে গেছে এমনসব রক্তাক্ত স্মৃতি—যা বুকে কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকে।

কোটা সংস্কার থেকে গণ-আন্দোলনের সূচনা

২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট একটি রায় দেয়, যেখানে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার বাতিল করে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করা হয়। পরদিন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদ শুরু করে, রাজু ভাস্কর্যের সামনে উচ্চারিত হয় সেই ঐতিহাসিক স্লোগান—“কোটা না মেধা? মেধা, মেধা।”

এরপর থেকে সারাদেশে দাবির পক্ষে গড়ে ওঠে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”। ১ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু হয়, সরকার প্রজ্ঞাপন বাতিল না করলে ৪ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় আন্দোলন আরও জোরদার হয়।

১১ জুলাই হাইকোর্ট জানায়, সরকার চাইলে কোটা সংস্কারে পরিবর্তন আনতে পারে। তবু সরকার অনড় থাকে। ফলাফল—বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় ‘বাংলা ব্লকেড’। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ অবরোধ চালায়, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের হাতে আহত হন বহু শিক্ষার্থী।

রক্তে লেখা হল ইতিহাস: গুলি, লাশ, আগুন

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও সরকার সমর্থিত বাহিনী মিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

এই নির্মম ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ মানুষও এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে।

“পানি লাগবে, পানি?”—মির মুগ্ধের শান্তির ডাক ও শহীদ হওয়ার মুহূর্ত

এই আন্দোলনের সময় আরেকটি ঘটনা সারাদেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। ১৮ জুলাই, উত্তরা এলাকায় আন্দোলনের মাঝে এক তরুণ, মির মহফুজুর রহমান মুগ্ধ, পিপাসার্ত ছাত্রদের মাঝে পানি বিতরণ করছিলেন। মুখে একটাই প্রশ্ন:

“কারো পানি লাগবে? পানি লাগবে?”

একজন নিরীহ, নিরস্ত্র তরুণ মানুষের এই মমতাভরা প্রশ্ন যেন তখনকার রাষ্ট্রীয় বর্বরতার ঠিক বিপরীত ছবি।

তার মৃত্যুর মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। তার শান্তির আহ্বান—“পানি লাগবে, পানি?”—পরিণত হয় জুলাই বিপ্লবের এক অনন্য মানবিক প্রতীকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় তাকে স্মরণ করে পানি বিতরণ কর্মসূচি চালানো হয়, যেখানে আন্দোলনকারীরা একই কথা বলেন—

“পানি লাগবে, পানি?”। এই কথাটি হয়ে ওঠে সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া।

জুলাই ৩৬: রক্তের বিনিময়ে পতন

৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন এখন পরিচিত “জুলাই ৩৬” নামে। এই সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হয় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন দমন-পীড়ন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ১৪০০-এর বেশি, বিভিন্ন সংগঠনের মতে তা ২০০০ ছাড়িয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ আহত ও নিখোঁজ হন।

অবশেষে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অব্যাহত প্রতিরোধে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং হেলিকপ্টারে দেশ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

জুলাই সনদ—স্বপ্নের রূপরেখা

এই বিপ্লব শুধু সরকারের পতন নয়, ছিল এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের বীজ। সেই স্বপ্নের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতা চেয়েছিল একটি যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের দলিল—“জুলাই সনদ”।

এখনও সেই সনদ রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা হয়নি। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চ, বিএনপি, জামায়াতসহ অনেকেই এই সনদের বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও সনদ পাঠের ঘোষণা এসেছে।


জুলাই মানে আর শুধুই একটি মাস নয়—এটি এখন এক চেতনার নাম। এটি সাহসের, চোখের জলের, আর ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারের নাম।

জয় হোক শহীদের রক্তের। জয় হোক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।