শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে একই রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্রম মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে উপজেলার খাগা এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসাথে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও মন্দির কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
খাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নৈশপ্রহরী না থাকার সুযোগে চোরচক্র রাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা শ্রেণীকক্ষের তালা ভেঙে দুটি বৈদ্যুতিক ফ্যান, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘সততা স্টোর’-এর ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা চুরি করে। এছাড়া অফিস কক্ষের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে রেখে যায়।
অন্যদিকে, একই রাতে খাগা আশ্রম মন্দির থেকেও চোরেরা দান বাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকা, পূজায় ব্যবহৃত কাঁসার থালা-বাসনসহ মূল্যবান নানাবিধ ধর্মীয় সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যাপিঠে এমন জঘন্য অপরাধের পেছনের চক্রটিকে দ্রুত চিহ্নিত না করা গেলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এ অবস্থায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি ও এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের প্রতি আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
খাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলা বিদ্যালয় চত্বর সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকে। সেই সুযোগেই দুষ্কৃতকারীরা বারবার অপরাধ ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরি রোধে অবিলম্বে সরকারিভাবে নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলার জোর দাবি জানান তারা।
এলাকায় মাদকের বিস্তার ও নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুন্নাফ হোসেন বলেন, “এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদকসেবীদের আনাগোনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সংঘবদ্ধ মাদকসেবী চক্র এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় অপরাধের লাগাম টানতে অবিলম্বে রাতের বেলা পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।”
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মন্দিরে চুরির বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”