মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শতকোটির বাগানবাড়ি ঘুষ নেন আয়নাঘরের কারিগর জিয়া

আয়নাঘরের কারিগর চাকরি হারানো বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সেই মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ির তথ্য বের হয়ে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তিনি নির্মাণ করছেন দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা […]

নিউজ ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৫

আয়নাঘরের কারিগর চাকরি হারানো বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সেই মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ির তথ্য বের হয়ে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তিনি নির্মাণ করছেন দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম-খুনের নেপথ্যের নায়ক এই জিয়াউল আহসান। আলোচিত আয়নাঘরেরও মূল কারিগর তিনি। এ ছাড়া ফোনকলে আড়ি পাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড করতেন জিয়াউল আহসান। শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনায় যৌথ অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

গত ৭ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে আছেন শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী এই সামরিক কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাগানবাড়ির বিশালাকৃতির জমি একাধিক দলিলে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে কিনে জিয়াউল আহসানকে উপঢৌকন হিসেবে দেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। জমিগুলোর মালিকানা হস্তান্তরের বিভিন্ন স্তরে রফিকুল ইসলাম অথবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এদিকে অবৈধ এই সম্পদের তথ্য গোপন করতে জিয়াউল আহসান বাগানবাড়ির জমিগুলো রেজিস্ট্রি করেছেন তাঁর শিশুকন্যা তাসফিয়া আহসান জইতার নামে।

দলিলে মাত্র ১২ বছর বয়সী জইতাকে নাবালিকা হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ জইতা শিশু থাকা অবস্থায় কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও পিতা জিয়াউল আহসানের বদৌলতে শতকোটি টাকার বাগানবাড়ির মালিক বনে গেছে। আবার সেটি রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেন জইতার পিতা জিয়াউল আহসান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি থেকে এত বিশাল মূল্যের উপহার গ্রহণ মানে হলো জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন, যেটি আইন ও বিধি বহির্ভূত।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এনটিএমসির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নাবালিকা মেয়ে তাসফিয়া আহসান জইতার নামে একাধিক দলিলে কেনা হয়েছে বাগানবাড়ির পুরো জমি।

এর মধ্যে বাগানবাড়ির জন্য প্রথম জমি রেজিস্ট্রি হয় ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর। ওই সময় জইতার বয়স ছিল ১২ বছর ৬ মাস ৬ দিন। দলিলে জইতার বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যথাক্রমে জিয়াউল আহসান ও নুসরাত জাহান। আর জিয়াউল আহসানের বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যথাক্রমে নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও হোসনে আরা বেগম।

১৩৬৮৮ নম্বর দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ০.৬০ একর বা ১.৮১৮ বিঘার দলিল রেজিস্ট্রি হয়। দলিলে যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। জইতা নাবালক হওয়ায় তার পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন পিতা জিয়াউল আহসান। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কায়েমসাইর মৌজার আরএস ৮৬ দাগের ২.৫১ একর জমি থেকে ০.৬০ একর জমি জইতার নামে কেনা হয়। জমি ক্রয়ের অর্থ নগদ পরিশোধ করেন জিয়াউল আহসান। আর জমি বিক্রয়কারী হিসেবে দেখানো হয়েছে আব্দুর রহীম, রফিকুল ইসলাম, আবদুল বারেক, বেবী আক্তারসহ মোট আটজনকে।

এরপর ২০১৯ সালের ১৩ মে জিয়াউল আহসানের শিশুকন্যা তাসফিয়া আহসান জইতার নামে বর্তমান বাগানবাড়ির ০.৯০ একর বা ২.৭২৭ বিঘা জমির রেজিস্ট্রি হয়, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যার দলিল নম্বর ৬৩৮৮। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ জমিটির আমমোক্তার হিসেবে ছিলেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার আহম্মেদ অপু। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুটি তফসিলে কায়েতসাইর মৌজার ২০৯২ খারিজা খতিয়ান ও ২০৯১ জোত থেকে ০.৬০ একর এবং ১৪৯০ খারিজা খতিয়ান ও ১৪৮৯ জোত থেকে ০.৩০ একর জমি কেনা হয়। জমির বিক্রেতা হিসেবে দেখান মো. জাহিদ হোসেন, তানভীর হোসেন, ফারহানা হোসেন ও হাজী হাসমত আলীকে। এখানে মেয়ের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন জিয়াউল আহসান।

২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি তাসফিয়া আহসান জইতার নামে বাগানবাড়ির ০.৬৬৭ একর জমি রেজিস্ট্রি হয়, যার দলিল নম্বর ১০৯০। দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বরুনা মৌজায় ০.২৩৭ একর, নাওড়া মৌজায় ০.১৭ একর ও বসুলিয়া মৌজায় ০.২৬ একর জমি রয়েছে। এই জমিতেও আমমোক্তার ছিলেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিকের ছেলে কাওসার আহম্মেদ অপু। জমিটি কেনা হয় মো. হোসেন আলী, হাশেম আলীসহ মোট ১৮ জনের কাছ থেকে। যথারীতি এখানেও মেয়ের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন জিয়াউল আহসান।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানায়, এক প্লটে বিশাল আকৃতির বাগানবাড়ি নির্মাণের জন্য ধাপে ধাপে লাগোয়া জমিগুলোও কেনেন রফিকুল ইসলাম। জিয়াউল আহসানকে উপহার দিতেই তিনি জমিগুলোর মালিকদের সঙ্গে দেনদরবার করে বিক্রি করতে বাধ্য করেন। কেউ জমি বিক্রিতে রাজি না হলে জিয়াউল আহসানের নাম ব্যবহার করে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়ে জমি বিক্রিতে বাধ্য করেছেন রফিকুল ইসলাম। শতকোটি টাকা মূল্যের এই বাগানবাড়ির জমি কোনো টাকা না নিয়েই জিয়াউল আহসানের শিশুকন্যার নামে কেনেন রফিকুল ইসলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, জিয়াউল আহসানকে এই বাগানবাড়িটি দিয়ে রফিকুল ইসলাম এলাকার সাধারণ মানুষের ভূমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করতেন। তা না হলে জিয়াউল আহসানকে দিয়ে তাদের তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। মূলত রফিকুল ইসলাম এই বাগানবাড়িটি উপহার দিয়েছেন তাঁর দখলদারি নির্বিঘ্নে করার জন্য।

জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এলাকাবাসী সেখানে হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাঁর গ্রেপ্তারের পর থেকে বাগানবাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা কলেজের সামনে ছাত্র ও হকার নিহতের মামলায় ইন্ধনদাতা হিসেবে ৭ আগস্ট রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৬ আগস্ট সিএমএম কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তাঁর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জিয়াউল আহসানের জন্ম ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর, ঝলকাঠি জেলায়। ১৯৯১ সালের ২১ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাইডাইভার। জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থা, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অর্ন্তবর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়।

এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।