দেশের কোনো নির্দিষ্ট উপজেলা বা অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, দলীয় পরিচয় কিংবা আঞ্চলিক বিবেচনার পরিবর্তে দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। একটি উপজেলার মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা পাবে, পাশের উপজেলার মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়। উন্নয়নের সুফল দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা শুধু চাকরি করছেন না, বরং দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়ে উদ্যোগ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের সম্পদ সীমিত হওয়ায় সব দাবি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেছেন।
সমবায়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে গুরুত্ব
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সৌরশক্তির কার্যকর ব্যবহার বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে।
দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল মঈন খান বলেন, শুধু সমিতির সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী করে তুলতে হবে। গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে সমবায় সমিতি গঠন ও পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও জোর দেন তিনি।
সৌরপ্যানেল স্থাপনে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে বিদ্যুতের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় তা সহায়ক হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা কেনার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতিমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।