বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এই মুহূর্তে বিএনপি সরকারেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এত আন্দোলন-সংগ্রামের পর যদি সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তাহলে দেশ পরিচালনা করবে কে?
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা কলেজের শহিদ আ ন ম নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই, সংগ্রামের সুর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, “আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ১৭ বছরের একটি দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এখন যদি আবার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলা হয় বা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তাহলে দেশ চালাবে কে? বিকল্প নেতৃত্ব কোথায়?”
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বাস্তব সক্ষমতা এই মুহূর্তে বিএনপি সরকারের রয়েছে। “এটাই বাস্তবতা”—বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে উসকানিমূলক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে দলটি অতীতে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। তারা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে দেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে নুর বলেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে নেমেছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। শুধু নির্দিষ্ট দিনে স্মরণ নয়, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তিনি তা সমর্থন করবেন না। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নুর আরও বলেন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অশালীন ভাষা ও সহিংসতার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আর রক্তক্ষয়ের রাজনীতি নয়, বরং শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে। ভিন্নমত থাকলে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা যাবে, তবে তা হতে হবে সঠিক পদ্ধতিতে।
আলোচনা সভায় সংগঠনটির কলেজ শাখার সভাপতি নোমান আলম মুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক। অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।