আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘সদ্য বিদায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে সরকার। দুদকের চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সার্বিক তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা ও তদন্ত শেষে জনস্বার্থ বিবেচনায় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও এসময় মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির প্রতি কোনোভাবেই অবিচার করতে চায় না সরকার। তবে অভিযোগের সত্যতা মিললে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এর খেসারত এখনও দিতে হচ্ছে। খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত একটি সাময়িকীর প্রকাশিত তথ্য।’
জুলাই অভ্যুত্থানের মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা অনেকাংশে কমেছে।’
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে সরকার।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই নবীন আইনজীবীদের এগিয়ে যেতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও আপসহীন থাকতে হবে।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম,
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।