প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে অনেক সময় সংস্কৃতি ও ধর্মকে অযথা পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়। অথচ আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশে সংগীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, নৈতিক শিক্ষা ও আত্মিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইসলামের ইতিহাসেও বহু আলেম সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম, আবেগ ও জীবনের নানা অনুভূতির প্রকাশে সংগীতের গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, সংগীত মানবজীবনের গভীরতম অভিজ্ঞতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে এই দুই মহান স্রষ্টার প্রভাব অপরিসীম। নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাহিত্য ও শিল্পকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করবে, যা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক।
ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাষা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তবে শিক্ষাঙ্গনে প্রমিত বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে আবৃত্তি, কেরাত, নাচ, নাটক ও সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সুযোগ নেই। সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।