রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

২০ বছর পর পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামসহ আশপাশে এখন সাজ সাজ রব। প্রায় দুই দশক পর আগামীকাল সোমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনের খবরে উত্তরবঙ্গের এ জনপদে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এ উপলক্ষে জিয়া পরিবারের আদি নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত […]

২০ বছর পর পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২০ বছর পর পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামসহ আশপাশে এখন সাজ সাজ রব। প্রায় দুই দশক পর আগামীকাল সোমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনের খবরে উত্তরবঙ্গের এ জনপদে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এ উপলক্ষে জিয়া পরিবারের আদি নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান। তার সফর ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘ঘরের ছেলে’ প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেনÑএ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বগুড়ায় বিরাজ করছে আনন্দের আমেজ।

দিনব্যাপী সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জনসভায় ভাষণ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দিয়ে সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন। বেলা ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতি ভবন এবং ‘ই-বেলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া পৌর ভবনে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। পরে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পৌঁছে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। পরে নশিপুরে চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি ‘জিয়াবাড়ি’ যাবেন।

বিকালে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর তিনি বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদ পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি করবেন।

এদিকে, প্রায় ২০ বছর পর পৈতৃক বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখছি। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের গ্রামে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের।

একই গ্রামের গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি। এবার কাছ থেকে দেখতে পাব-এটাই বড় আনন্দ।

রাশেদ হোসেন নামে এক যুবক বলেন, আমাদের এলাকায় বড় কোনো জাতীয় নেতা এভাবে আসেন না। প্রধানমন্ত্রী নিজে আসছেন, তাও আবার নিজের বাড়িতে, এটি আমাদের জন্য ইতিহাসের মতো।

বগুড়া শহরের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, এ সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন প্রকল্পের ঘোষণা এলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে জনসভা ও অন্যান্য কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কয়েক দিন ধরে সড়ক বিভাগ ডিভাইডার রঙ করছে, সড়কের যেখানে যেখানে খানাখন্দ আছে সেগুলো ভরাট করছে। ডিভাইডারের গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার সড়ক বাতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সড়কের পাশের আবর্জনা ও বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কিট হাউস নতুন করে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ শহরের যেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার কাজ করছে। পুলিশ বিভাগ শহরের যানজট নিরসনে কাজ করছে।

আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিকাল ৪টায় জনসভা। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, দ্রুত গতিতে সংস্কারকাজ চলছে। শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, জনগণের সম্পৃক্ততার জন্যই তিনি তার এ আসন থেকে জনগণের কাছে নতুন বার্তা দেবেন। সেজন্য আগে জনসভার শিডিউল না থাকলেও বর্তমানে রাখা হয়েছে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন বলেন, প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রীর সফর এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ঘরের ছেলে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেন-এটি শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, আমাদের আবেগের বিষয়।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।