বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ফরাসি দার্শনিকের ভ্রান্তি: বিবাহ ও যৌনতার প্রকৃত অর্থ

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ। এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:৫২

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ।

এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলো।

উক্তিটির উৎপত্তি ও সত্যতা

ধারণা করা হয়, এই উক্তিটি প্রথমবার এসেছে ফ্রঁসোয়া-মারি আরুয়ের (১৬৯৪-১৭৭৮), যিনি ফরাসি দার্শনিক ও লেখক ভলতেয়ার ছদ্মনামেই নামেই অধিক পরিচিত। উক্তিটি মূলত সমাজে অবাধ যৌনতা ও বিবাহের বিরুদ্ধে এক ধরনের বার্তা হিসেবে প্রচারিত হয়ে থাকে। তবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল ধারণা।

বিবাহের প্রথার প্রাচীনতা

মানব সভ্যতার শুরুর দিনগুলো থেকেই বিবাহ প্রথা বিদ্যমান ছিল। প্রথম মানব, আদম আ.-এর সময় থেকেই এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া আ. একে অপরের জন্য পরিপূরক। সুরা বাকরাহর ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আর আমি বললাম, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে আহার করো স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

এ আয়াতে স্পষ্টতই বলা হয়েছে যে, আদম আ. ও হাওয়া আ. একে অপরের সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যা আল্লাহর বিধান অনুসারে ছিল।

আদম আ. ও হাওয়া আ.-এর সম্পর্ক

তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে যে, আদম আ. -এর সৃষ্টি হওয়ার পর তাঁর বাঁ পাঁজর থেকে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করা হয়। ইবনে কাসির রাহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. যখন ঘুমে ছিলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর শরীর থেকে একটি হাড় নিয়ে সেটির মাধ্যমে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করেন। পরে, আদম আ. যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তিনি হাওয়াকে তাঁর সঙ্গী হিসেবে দেখতে পান এবং তাঁকে স্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করেন।

কুরআনে আরও বলা হয়েছে, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। (সুরা নিসা, আয়াত: ১)

এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা প্রথম মানব আদম আ.-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর সঙ্গী হিসেবে হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করেছেন, যা বিবাহের প্রাথমিক প্রমাণ।

বিবাহের বিধান ও পদ্ধতি

আলেমরা বলেন, আদম আ. ও হাওয়া আ. -এর সম্পর্ক ছিল আদর্শ বিবাহের সূচনা। তবে, তাঁদের বংশধরদের জন্য এক নতুন বিধানও আরোপ করা হয়েছিল। ইবনে কাসির রহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. -এর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান ছিল, যেখানে এক গর্ভে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যাকে সহোদর হিসেবেই গণ্য করা হয়েছিল, এবং তাদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। তবে, পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যার মধ্যে বিবাহ বৈধ ছিল। (ইবনে কাসির)

উক্তির ভুল ব্যাখ্যা

যারা বলেন, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ, তারা ভুলভাবে বুঝে থাকেন যে, বিবাহ একটি মানবিক সৃষ্ট কৃতিত্ব, যা সমাজে কিছু লোক (যাজকরা) প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বিবাহ একটি মহান বিধান, যা আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানব সমাজের প্রথম দিক থেকেই বিবাহের প্রথা ছিল এবং এটি সমাজে একটি সুশৃঙ্খল সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, বিবাহ একটি আল্লাহর দেয়া বিধান, যা মানুষের সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে অপরিহার্য। তাই এই ধরনের মনগড়া উক্তি বিশ্বাস করা কিংবা প্রচার করা ভুল।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই ধরনের ভুল মতাদর্শ থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৪

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।