বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ফরাসি দার্শনিকের ভ্রান্তি: বিবাহ ও যৌনতার প্রকৃত অর্থ

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ। এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:৫২

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ।

এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলো।

উক্তিটির উৎপত্তি ও সত্যতা

ধারণা করা হয়, এই উক্তিটি প্রথমবার এসেছে ফ্রঁসোয়া-মারি আরুয়ের (১৬৯৪-১৭৭৮), যিনি ফরাসি দার্শনিক ও লেখক ভলতেয়ার ছদ্মনামেই নামেই অধিক পরিচিত। উক্তিটি মূলত সমাজে অবাধ যৌনতা ও বিবাহের বিরুদ্ধে এক ধরনের বার্তা হিসেবে প্রচারিত হয়ে থাকে। তবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল ধারণা।

বিবাহের প্রথার প্রাচীনতা

মানব সভ্যতার শুরুর দিনগুলো থেকেই বিবাহ প্রথা বিদ্যমান ছিল। প্রথম মানব, আদম আ.-এর সময় থেকেই এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া আ. একে অপরের জন্য পরিপূরক। সুরা বাকরাহর ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আর আমি বললাম, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে আহার করো স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

এ আয়াতে স্পষ্টতই বলা হয়েছে যে, আদম আ. ও হাওয়া আ. একে অপরের সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যা আল্লাহর বিধান অনুসারে ছিল।

আদম আ. ও হাওয়া আ.-এর সম্পর্ক

তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে যে, আদম আ. -এর সৃষ্টি হওয়ার পর তাঁর বাঁ পাঁজর থেকে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করা হয়। ইবনে কাসির রাহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. যখন ঘুমে ছিলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর শরীর থেকে একটি হাড় নিয়ে সেটির মাধ্যমে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করেন। পরে, আদম আ. যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তিনি হাওয়াকে তাঁর সঙ্গী হিসেবে দেখতে পান এবং তাঁকে স্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করেন।

কুরআনে আরও বলা হয়েছে, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। (সুরা নিসা, আয়াত: ১)

এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা প্রথম মানব আদম আ.-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর সঙ্গী হিসেবে হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করেছেন, যা বিবাহের প্রাথমিক প্রমাণ।

বিবাহের বিধান ও পদ্ধতি

আলেমরা বলেন, আদম আ. ও হাওয়া আ. -এর সম্পর্ক ছিল আদর্শ বিবাহের সূচনা। তবে, তাঁদের বংশধরদের জন্য এক নতুন বিধানও আরোপ করা হয়েছিল। ইবনে কাসির রহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. -এর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান ছিল, যেখানে এক গর্ভে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যাকে সহোদর হিসেবেই গণ্য করা হয়েছিল, এবং তাদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। তবে, পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যার মধ্যে বিবাহ বৈধ ছিল। (ইবনে কাসির)

উক্তির ভুল ব্যাখ্যা

যারা বলেন, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ, তারা ভুলভাবে বুঝে থাকেন যে, বিবাহ একটি মানবিক সৃষ্ট কৃতিত্ব, যা সমাজে কিছু লোক (যাজকরা) প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বিবাহ একটি মহান বিধান, যা আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানব সমাজের প্রথম দিক থেকেই বিবাহের প্রথা ছিল এবং এটি সমাজে একটি সুশৃঙ্খল সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, বিবাহ একটি আল্লাহর দেয়া বিধান, যা মানুষের সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে অপরিহার্য। তাই এই ধরনের মনগড়া উক্তি বিশ্বাস করা কিংবা প্রচার করা ভুল।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই ধরনের ভুল মতাদর্শ থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে। ‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।” “তারা […]

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৮

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে।

‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।”

“তারা আরও বলেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম, কিয়াম এবং ইবাদত কবুল করুক। এবং তিনি যেন আমাদের এই বরকতময় মাসের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।”

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর