মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

রসুল সা.-এর বিশেষ মুজিযা: ইসরা ও মিরাজ

নবী কারীম সা.-এর বরকতময় জীবনরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো ইসরা ও মিরাজ। এ ঘটনাটি ঘটেছিল নবী কারিম সা.-এর হিজরতের পূর্বে। আর তা ছিল নবী কারিম সা.-এর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা; যা অন্য কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। আবার এটি ছিল এই উম্মতের জন্য অনেক বড় নিয়ামত। এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ জানুয়ারী ২০২৫, ১৭:৩৬

নবী কারীম সা.-এর বরকতময় জীবনরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো ইসরা ও মিরাজ। এ ঘটনাটি ঘটেছিল নবী কারিম সা.-এর হিজরতের পূর্বে। আর তা ছিল নবী কারিম সা.-এর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা; যা অন্য কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। আবার এটি ছিল এই উম্মতের জন্য অনেক বড় নিয়ামত।

এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে সেখানে লুকিয়ে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য হিকমত ও রহস্য। তাই প্রত্যেক ইমানদারের উচিত ইসরা ও মিরাজের সঠিক ঘটনাটি জানা এবং এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা পোষণ করা।

বস্তুত ইসরা হচ্ছে, মক্কা মুকাররমা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণের সেই পর্বটুকু, যা রাতের একটি অংশে সংঘটিত হয়েছিল। আর মিরাজ হচ্ছে সেখান থেকে ঊর্ধ্বজগৎ পরিভ্রমণের সেই বিস্তৃত অধ্যায়। মনে রাখতে হবে, রসুল সা.-এর মিরাজ হয়েছিল স্বশরীরে; স্বাপ্নিক নয়।

কুরআনের আলোকে
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরা বানী ইসরাঈল-এর শুরুতেই ইরশাদ করেছেন, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতের একটি অংশে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন। (সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত: ১)

আর সুরা নাজম-এ ইরশাদ হয়েছে, বস্তুত সে তাকে (হজরত জিবরাইল আ.-কে) আরও একবার দেখেছে। সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবতীর কুলগাছ)-এর কাছে। তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মা’ওয়া। তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস, যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। রসুলের চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি।

অর্থাৎ দেখার ব্যাপারে চোখ ধোঁকায় পড়েনি এবং আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যে সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, তিনি তা লংঘনও করেননি যে, তার সামনে কী আছে তা দেখতে যাবে।) বাস্তবিকপক্ষে, সে তার প্রতিপালকের বড় বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে। (সূরা নাজম, আয়াত: ১৩-১৮)

ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনায় সংক্ষেপে এতটুকুই বলা হয়েছে। আর এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে হাদিস শরিফে। সিরাত ও তারিখের নির্ভরযোগ্য সূত্রেও রয়েছে এর বিশদ বিবরণ।

হাদিসের আলোকে
মক্কায় অবস্থানকালে কোনো একরাতে রসুলুল্লাহ সা. সাহাবিদের নিয়ে ইশার নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর খানায়ে কাবা সংলগ্ন ‘হাতীমে’ শুয়ে বিশ্রাম নিতে লাগলেন। তিনি ছিলেন তন্দ্রাচ্ছন্ন। তখনও নিদ্রা আসেনি। কলব বা অন্তর ছিল জাগ্রত। এরই মাঝে আগমন করলেন হজরত জিবরাইল আ.। তিনি নবীজীকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন যমযমের নিকট।

একটি স্বর্ণের পেয়ালা আনা হল। তা ছিল ইমান ও হিকমতে পূর্ণ। তাতে যমযমের পানি। জিবরাইল আ. নবীজীর বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করলেন। বের করে আনলেন নবীজীর হৃৎপিণ্ড। যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে আবার যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করে দিলেন। ইমান ও হিকমতে পূর্ণ করে দেওয়া হল নবীজীর কলব।

এরপর আনা হল নবীজীকে বহন করার জন্য একটি বুরাক। এই প্রাণীটি ছিল গাধার চেয়ে বড়, ঘোড়া থেকে ছোট। রং সাদা। এটা এতটাই ক্ষিপ্রগতির যে, যার একেকটি কদম পড়ে দৃষ্টির শেষ সীমায় গিয়ে। তার পিঠের উপর জিন আঁটা ছিল, মুখে ছিল লাগাম। নবীজী রেকাবে পা রাখবেন এমন সময় ‘বুরাক’ ঔদ্ধত্য দেখাল।

জিবরীল আ. তাকে থামিয়ে বললেন, হে বুরাক! তুমি মুহাম্মাদ সা.-এর সামনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছ? তুমি কি জান, আল্লাহর কাছে তার চেয়ে মহান ও প্রিয়তম কোনো ব্যক্তি কখনও তোমার উপর সওয়ার হয়নি। একথা শুনতেই বুরাক ঘর্মাক্ত হয়ে গেল। (সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৩১৩১)

অতঃপর নবীজি সা. বুরাকে আরোহণ করলেন। মুহূর্তেই এসে উপস্থিত হলেন জেরুজালেম নগরীর বায়তুল মাকদিসে। হজরত জিবরীল আ. পাথর ছিদ্র করে বুরাকটি বেঁধে রাখলেন। এই পাথরেই নবীগণ নিজেদের বাহন বেঁধে রাখতেন।

বায়তুল মাকদিসে ঢুকে তিনি দেখেন, হজরত মূসা আ. নামাযরত আছেন। হজরত ঈসা আ.-কেও দণ্ডায়মান হয়ে নামাজ পড়তে দেখা গেল। হজরত ইবরাহীম আ.-কেও নামাযরত অবস্থায় দৃষ্টিগোচর হল। নবীজী বলেন, তাঁর দেহাবয়ব আমার সাথে অধিক সামঞ্জ্যশীল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৭)

ইতিমধ্যে জামাত প্রস্তুত হল। তিনি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। সকল নবী-রসুলগণ নবীজীর পিছনে ইক্তেদা করলেন। ওখান থেকে বের হয়েই দেখলেন, জিবরীল আ.-এর হাতে দুটি সুদৃশ্য পাত্র। একটি শরাবের, অপরটি দুধের । পাত্র দুটি পেশ করা হলে নবীজি দুধেরটিকেই বেছে নিলেন।

এটা দেখে জিবরীল আ. তাঁকে বললেন, আপনি ও আপনার উম্মত স্বভাবজাত ফিত্রাতকেই বেছে নিয়েছেন। আপনি যদি তা পছন্দ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৯৪ / সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৮)

এরপর শুরু হল ঊর্ধ্বজগতের সফর। হজরত জিবরাইল নবীজিকে নিয়ে চললেন। একেক করে সপ্ত আসমান পারি দিলেন। তখন প্রত্যেক প্রত্যেক আসমানেই পূর্ববর্তী নবীগণের সাথে সাক্ষাৎ হয়।

ইসরা ও মিরাজ ছিল মুসলমানদের জন্য এক অমূল্য শিক্ষার দিক। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মত আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও হিকমত সম্পর্কে আরো জানতে পারে। এটি শুধু নবী সা.-এর জন্য একটি বিশেষ মুজিযা ছিল না, বরং উম্মতের জন্যও একটি বড় নিয়ামত, যা আমাদের ইমান ও আস্থা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: মুফতি মুখলিছুর রহমান
মুদাররিস: জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম কুষ্টিয়া

ইসলাম ও জীবন

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে। ‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।” “তারা […]

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৮

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে।

‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।”

“তারা আরও বলেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম, কিয়াম এবং ইবাদত কবুল করুক। এবং তিনি যেন আমাদের এই বরকতময় মাসের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।”

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর

ইসলাম ও জীবন

সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শনিবার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে জানাতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ও মাস নির্ধারণ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির বৈঠক আরবি মাসের প্রতি ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটিতে কারা থাকেন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্যসচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ

টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক।

এছাড়া প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের উপ-কমিটিও রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে কমিটি

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তিনিই সভা শুরু করেন। তিনি না থাকলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব দায়িত্ব পালন করেন।

বৈঠকের শুরুতে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে চাঁদের সম্ভাব্য অবস্থান ও বয়স সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার অবস্থা—কোথায় আকাশ পরিষ্কার, কোথায় মেঘ রয়েছে—এসব জানা হয়।

এরপর মূলত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদ দেখার তথ্য আসার জন্য অপেক্ষা করে কমিটি। জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি থেকে তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভাতা হিসেবে নির্ধারিত অর্থ পান।