রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

কেন মানুষ নামাজ আদায়ে উদাসীন?

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিন একজন মুমিনকে আদায় করতে হয়। এটা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মুসলমান এই ফরজ ইবাদতের প্রতি উদাসীন থাকে। আজকের আলোচনায় আমরা এই উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে জানবো। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের […]

নিউজ ডেস্ক

০২ জানুয়ারী ২০২৫, ২১:২০

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিন একজন মুমিনকে আদায় করতে হয়। এটা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মুসলমান এই ফরজ ইবাদতের প্রতি উদাসীন থাকে। আজকের আলোচনায় আমরা এই উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে জানবো। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য নামাজ

আমরা ইবাদত করলে আল্লাহ তায়ালার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করা হয় না। বরং তার অনুগ্রহ পেতে আমাদের ইবাদত করতে হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা যদি আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়তে হবে। অনেকে মনে করেন, তারা মুসলিম হয়ে আল্লাহর রসুলের প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, قُلۡ لَّا تَمُنُّوۡا عَلَیَّ اِسۡلَامَکُمۡ ۚ بَلِ اللّٰہُ یَمُنُّ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ ہَدٰىکُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছো বলে মনে করো না; বরং আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা হুজরাত ১৭)

এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ইসলাম গ্রহণ করা ও নামাজ আদায় করা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ লাভের একটি উপায়। তাই, যদি আমরা আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসা পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়া অত্যন্ত জরুরি।

নামাজ না পড়ার কারণ

নামাজ না পড়ার প্রধানত দুইটি কারণ রয়েছে: বিশ্বাসের দুর্বলতা এবং চিন্তাগত সমস্যা। আর আজ আমরা এই বিষয় দুটি সম্পর্কে জানবো।

১. সত্য গ্রহণ না করা

যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ার প্রতি ইচ্ছা না অনুভব করে, তাহলে বুঝতে হবে যে সে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের সত্যতা এখনো পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে কিছু মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যাদের চেহারা বিবর্ণ হবে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, فَلَا صَدَّقَ وَ لَا صَلّٰی
সে সত্য বলে মানেনি এবং নামাজ পড়েনি। (সুরা কিয়ামাহ ৩১)

এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে, যেহেতু সে আল্লাহ তায়ালাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি, তাই সে নামাজ পড়েনি। মুসলমানদের মধ্যে যদি কাউকে নামাজে উদাসীন দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার ঈমানে দুর্বলতা রয়েছে এবং সে আল্লাহ তায়াকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।

২. নামাজ না পড়ার পরিণতি নিয়ে ভাবনা

মুসলমানদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা রয়েছে যে, তারা নামাজ পড়ে শুধু জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, আল্লাহ তায়ালার রাগ ও ক্ষোভ থেকে মুক্তি ও কিয়ামত দিবসের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা পেতে। তবে প্রকৃতপক্ষে, নামাজ পড়তে হবে শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো থেকে বাঁচার জন্য নয়; বরং নামাজের মাধ্যমে আমরা যে উপকারিতা লাভ করি, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যখন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই মানুষের এবং আল্লাহ তায়ালার মাঝে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবী ও আকাশ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চিরকাল থাকবেন। তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, নামাজের আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। তা গুনাহ মাফ করে, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে রক্ষা করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَذِکۡرُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ

নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা জানেন।(সুরা আনকাবুত ৪৫)

নবীজি সা. ও তার সাহাবিরা নামাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাদের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, নামাজ শুধুমাত্র একটি ফরজ ইবাদত নয়, এটা একটি আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তি, যা জীবনের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে। তাদের নামাজের প্রতি যত্নশীলতার কারণে তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত হয়েছিলেন।

নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। যারা নামাজের প্রতি উদাসীন থাকে, তাদের ঈমানের দুর্বল হতে পারে। তাই আমাদের উচিত, নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নবীজি সা. ও সাহাবিদের পথ অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ও নিয়মিত নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে। ‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।” “তারা […]

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৮

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে।

‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।”

“তারা আরও বলেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম, কিয়াম এবং ইবাদত কবুল করুক। এবং তিনি যেন আমাদের এই বরকতময় মাসের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।”

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর

ইসলাম ও জীবন

সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শনিবার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে জানাতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ও মাস নির্ধারণ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির বৈঠক আরবি মাসের প্রতি ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটিতে কারা থাকেন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্যসচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ

টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক।

এছাড়া প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের উপ-কমিটিও রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে কমিটি

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তিনিই সভা শুরু করেন। তিনি না থাকলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব দায়িত্ব পালন করেন।

বৈঠকের শুরুতে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে চাঁদের সম্ভাব্য অবস্থান ও বয়স সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার অবস্থা—কোথায় আকাশ পরিষ্কার, কোথায় মেঘ রয়েছে—এসব জানা হয়।

এরপর মূলত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদ দেখার তথ্য আসার জন্য অপেক্ষা করে কমিটি। জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি থেকে তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভাতা হিসেবে নির্ধারিত অর্থ পান।