দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ মার্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দেয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, এয়ারটেল, জিও ও ভি-সহ বিভিন্ন টেলিকম অপারেটরকে যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার এলাকায় বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়। তবে এ নির্দেশ কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ জারি করেছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার, একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নেয় পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ সময় লাউডস্পিকারযুক্ত একটি পুলিশ বাস থেকে একজন স্বেচ্ছাসেবক মাইকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকায় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির ওপরই পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?