শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসছে সাহায্যের আকুতি

ভেনেজুয়েলার রাজধানীর অদূরে পরপর জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে এখন চলছে তল্লাশি। কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার ধসে পড়া ভবনের কংক্রিটের নিচ থেকে ভেসে আসছে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যের আকুতি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল […]

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসছে সাহায্যের আকুতি

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত ২৩৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে বহু মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জুন ২০২৬, ১০:১৩

ভেনেজুয়েলার রাজধানীর অদূরে পরপর জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে এখন চলছে তল্লাশি।

কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার ধসে পড়া ভবনের কংক্রিটের নিচ থেকে ভেসে আসছে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যের আকুতি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে—সেটির মাত্রা ছিল ৭.৫। দুটি ভূমিকম্পেরই কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি, যার কারণে ধ্বংসযজ্ঞ তীব্র হয়েছে।

নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষ ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানে ভূমিকম্প দুটি। ভেনেজুয়েলার জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই ঘরে ছিল।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল অগভীর। প্রথমটির কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০.৩ কিলোমিটার নিচে হলেও দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এরইমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেন, নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।

ছবি: রয়টার্স

বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলকে সাহায্য করতে এবং ‘দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম’  চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিবহন জাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে।

হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, অন্তত ২৫০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এর বেশিরভাগই লা গুয়াইরা শহরের। সেখানে একটি ১০-তলা হোটেল পুরোপুরি মাটিতে মিশে যাওয়ার ভিডিও যাচাই করে দেখেছে বিবিসি। বৃহস্পতিবার সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছিলেন অসংখ্য মানুষ।

বিবিসিকে হুয়ান ওর্তিজ নামের এক যুবক জানান, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আরেক বন্ধু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন। উপকূলীয় ওই এলাকায় বসবাসকারী তার পরিচিত অন্তত ২০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানান, রাজধানী কারাকাসসহ ট্রুহিলিও, ইয়্যারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া ও মিরান্ডা অঞ্চলেও বহু ভবন ধসে পড়েছে।

ছবি: রয়টার্স

কারাকাস মেট্রোপলিটন এলাকার অংশ চাকাও। বৃহস্পতিবার সেখানকার একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়র গুস্তাভো দুকে জানান, শুধু এই একটি ভবন থেকেই ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, জীবিত উদ্ধার করা গেছে ২৩ জনকে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মাইকেতিয়া মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ছাদ ধসে ধুলোবালি ও কংক্রিটের টুকরো অনবরত নিচে খসে পড়ছে।

কারাকাস থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, তুকাকাস উপকূলের আরও একটি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বহুতল হোটেল হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে।

জোড়া ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশকে কেঁপে উঠছে গোটা এলাকা। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভেনেজোলানা দে টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, মূল ধাক্কার পর অন্তত ৩০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কারাকাসে সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন এক নারী। ছবি: রয়টার্স

ইউএসজিএস বলেছে, ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল প্রাণহানির সম্ভাবনাই বেশি। এই বিপর্যয় ব্যাপক রূপ নিতে চলেছে।’

বিগত বছরগুলোর একই ধরনের ভূমিকম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্বের মতো একাধিক নিয়ামক বিশ্লেষণ করে সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুসারে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪২ শতাংশ এবং ১ লাখ পার হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩৩ শতাংশ।

এটি কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা, গভীরতা ও অতীতের একই ধরনের ভূকম্পনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে এই গাণিতিক মডেল তৈরি করা হয়েছে। 

এছাড়া হতাহতের সংখ্যা কত দাঁড়াবে, তা আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—যেমন ওই অঞ্চলের ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী কেমন এবং ঠিক কোন সময়ে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে।

ভেনেজুয়েলা মূলত দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলের ওপর অবস্থিত। ভূগর্ভে এই দুই প্লেটের মধ্যকার ঘর্ষণে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ বেরিয়ে আসার কারণেই এই ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কারাকাস থেকে সাংবাদিক লুইস হার্নান্দেজ বিবিসি নিউজডে-কে জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ধারণা এখন এখনও সম্ভব নয়। 

লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপে বোন ও ভাগ্নেকে খুঁজছেন এক দমকল কর্মী। ছবি: রয়টার্স

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে বলেছেন, রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা ও লস পালোস গ্রান্দেস এলাকা দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে ১৯৬৭ সালে ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে শেষ বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই সময়ও এই দুটি এলাকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; সেবার প্রাণ হারিয়েছিল ২০০ জন মানুষ।

ইউএসজিএসের রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার বাসিন্দারাও এর কম্পন টের পেয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৯

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৯

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৯

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৯