শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না

স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন। সোমবার (৫ মে) বেলা ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করা প্রতিবেদনে কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ মে ২০২৫, ১৮:২৩

স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন। সোমবার (৫ মে) বেলা ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করা প্রতিবেদনে কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে ই-মেইলের মাধ্যমে।

এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের উপহার ও বিনামূল্যে ওষুধের নমুনা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সংবিধান সংশোধন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর সুপারিশ রয়েছে। কমিশনের মতে, এ অধিকার বাস্তবায়নে একটি পৃথক ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন’ প্রণয়ন জরুরি, যা নাগরিকদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।

কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, এমবিবিএস ডাক্তার ব্যতীত অন্য কেউ যেন অ্যান্টিবায়োটিক দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ওষুধের দাম, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার খরচ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ফি নির্ধারিত করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যসেবা হয় নাগরিকবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭টি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব। এগুলো হলো—বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন আইন, বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস আইন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ এবং প্রবেশাধিকার আইন, অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনাল কমিশনার আইন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কমিশনার আইন।

এছাড়া, স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেন দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে সহজলভ্য হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য

৫ আগস্টের পর থেকেই ডিস্টার্ব করতেন যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন : ডা. কামরুল

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৭

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহের কাজ চাইছিলেন। এ নিয়ে নানা সময়ে ডিস্টার্ব করতেন।

এমনকি আমার অজ্ঞাতসারে ডিম ও চালও সরবরাহ করতেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তো এটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে এত বেশি দামে কিনবো। তখন আমরাই সরাসরি বাজার থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেই।’

তিনি বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

‘এছাড়া এর আগে গত ২৯ মার্চও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।’

অধ্যাপক কামরুল বলেন, ‘আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেছেন, এই ছেলে খারাপ, কাউকে মানে না। মবের পর পুলিশও ভয় পাচ্ছে দেখলাম। আমরা ভয় পাই, পুলিশও ভয় পেলে কীভাবে চলবে?’

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও স্টাফদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রশাসন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয়

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু। মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ […]

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু।

মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পাবে হামের ভ্যাকসিন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মত টিকা না পাওয়ার কারনেই হামে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। ভ্যাকসিন দেয়ার ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। সেক্ষেত্রে, আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর সময়মত শিশুদের টিকা দেওয়া না হলে হাম নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।


উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ২ জন ও কক্সবাজার জেলায় ২ জন শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ সন্দেহে ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে।