বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

ঢামেকে হামলা দোষীদের গ্রেফতারে দুদিন সময় চাইলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার দফা দাবিতে সারাদেশে সব ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে হামলাকারী ও দোষীদের গ্রেফতারে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কাছে দুদিন সময় চেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। সেখানে তিনি আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের […]

নিউজ ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:০১

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার দফা দাবিতে সারাদেশে সব ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে হামলাকারী ও দোষীদের গ্রেফতারে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কাছে দুদিন সময় চেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। সেখানে তিনি আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কাছে দুদিন সময় চান। এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান, ঢামেক চিকিৎসকরাসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে এখনই আলাপ করবো। আমাকে দুদিন সময় দাও, যেন ব্যবস্থা নিতে পারি। এছাড়া অন্য দাবিগুলো নিয়ে আমরা কী করতে পারি তা আলোচনা করবো।

এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, হাসপাতালে হামলার সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্লাটুন থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা চাই। এখন যারা হাসপাতালে সেবা দেবেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন সংস্থা বা ব্যক্তি আমাদের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বে থাকবে, যাদের কাছে আমরা যাবো।

চিকিৎসকরা দাবি করেন, ইমারজেন্সি বিভাগে যতজন চিকিৎসক থাকবেন পাশে সেনাবাহিনীর সদস্য থাকতে হবে। অন্যান্য স্বাস্থ্য পুলিশ ও স্বাস্থ্য আইন নিয়েও আপডেট চান আন্দোলনকারীরা।

ঢামেক পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের ১ প্লাটুন, বিজিবির ২ প্লাটুন ও সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে হাসপাতালে থাকবে। সেনাবাহিনী হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

তিনি বলেন, আমি ব্যর্থ হতে চাই না। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চটা দিয়ে। আন্দোলনকারীরা বলেন, এর আগেও দাবি পূরণ হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা হয়নি। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা কোনো পলিটিক্যাল সরকার না। ওয়েট অ্যান্ড সি।

গতকাল শনিবার দিনগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। হামলার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে রোববার সকাল থেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকেরা। এরপর চিকিৎসকেরা সারাদেশে সব ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন।

 

স্বাস্থ্য

৫ আগস্টের পর থেকেই ডিস্টার্ব করতেন যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন : ডা. কামরুল

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৭

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহের কাজ চাইছিলেন। এ নিয়ে নানা সময়ে ডিস্টার্ব করতেন।

এমনকি আমার অজ্ঞাতসারে ডিম ও চালও সরবরাহ করতেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তো এটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে এত বেশি দামে কিনবো। তখন আমরাই সরাসরি বাজার থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেই।’

তিনি বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

‘এছাড়া এর আগে গত ২৯ মার্চও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।’

অধ্যাপক কামরুল বলেন, ‘আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেছেন, এই ছেলে খারাপ, কাউকে মানে না। মবের পর পুলিশও ভয় পাচ্ছে দেখলাম। আমরা ভয় পাই, পুলিশও ভয় পেলে কীভাবে চলবে?’

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও স্টাফদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রশাসন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয়

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু। মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ […]

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু।

মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পাবে হামের ভ্যাকসিন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মত টিকা না পাওয়ার কারনেই হামে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। ভ্যাকসিন দেয়ার ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। সেক্ষেত্রে, আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর সময়মত শিশুদের টিকা দেওয়া না হলে হাম নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।


উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ২ জন ও কক্সবাজার জেলায় ২ জন শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ সন্দেহে ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে […]

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১০:০০

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে শিশুকে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিড না করানো, সময়মতো টিকা না দেওয়া, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না হওয়া, পুষ্টিহীনতা এবং সর্বোপরি শিশুর রোগ প্রতিরোধে ঘাটতিকে দায়ী করেন।

সংক্রমণ চিত্র:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৫ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ৩৪৪ জনের। হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১১ শিশুর। মৃত্যু হওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৪ শিশুর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হামবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫০৩ জন। এসময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০৫ শিশুর শরীরে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ শিশু। নিশ্চিত হামে ঢাকায় ৩ শিশু ও বরিশালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও সিলেটে ২ শিশু মারা গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৯ জন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি (ইমিউনিটি গ্যাপ) হামের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের ‘হার্ড ইমিউনিটি’ সীমার নিচে নেমে গেলে সেখানে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাম মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে আক্রান্ত শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা জরুরি। মির্জা জিয়াউল বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। পাশাপাশি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান—(আইইডিসিআর)-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যুহার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকবে। তবে মুশকিল হলো, পরিত্রাণের পর আমরা আবার হাম মোকাবিলার কথা ভুলে যাব।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সারা দেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

১ কোটি ৭৩ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান সম্পন্ন: এদিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে। সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ পূরণ হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকাদান সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক টিকা গ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা হিসেবে বরিশালে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রামে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২, ঢাকায় ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০, খুলনায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬, ময়মনসিংহে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫, রাজশাহীতে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩, রংপুরে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ এবং সিলেটে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন।